রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের তালিকা ও পরিচয়:
নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও ঢাকা অঞ্চলের যাত্রীরা রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
- রাজবাড়ী সদর: রেহেনা আক্তার (৬১), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহা আক্তার (১১), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), তাজবিদ (৭), লিমা আক্তার (২৬), সাবিত হাসান (৮), জোস্ন্যা (৩৫)।
- গোয়ালন্দ ও কালুখালী: মর্জিনা আক্তার (৩২), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানূর (১১), নাজমিরা জেসমিন (৩০), আব্দুর রহমান (৬)।
- চালক: আরমান খান (৩১), বালিয়াকান্দি।
- অন্যান্য জেলা: কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসার শিশু ইস্রাফিল (৩), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের ৭ মাসের শিশু আরমান, গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) এবং ঢাকার আশুলিয়ার আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)।
মর্মান্তিক সেই মুহূর্তের বর্ণনা
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী সাকিব ও আব্দুল আজিজ জানান, বাসটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সিট ছাড়াও ইঞ্জিনের ওপর এবং অনেকের কোলে শিশু ছিল। ফেরিতে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ৪-৫ জন যাত্রী নামলেও বাকিরা বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মুহূর্তেই বাসটি গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়।
বর্তমান অবস্থা
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাসের ভেতর থেকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো আরও কেউ নিখোঁজ আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে নদীতে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এমন গণমৃত্যুতে রাজবাড়ীসহ পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বাধীনতা দিবসের ভোরে স্বজনদের মরদেহ বুঝে নেওয়ার সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।










