রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি পল্লী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারুফ হোসেন ওরফে দুখু (২০) নামে এক তরুণ কারখানা শ্রমিক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।
গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাত পৌনে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাসা থেকে বের হওয়ার পরই গুলি
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফ সায়দাবাদ মালঞ্চ সেন্টারের পাশের গলিতে একটি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারখানা থেকে পেশাগত কাজ শেষ করে তিনি ধলপুরের বাসায় ফেরেন।
বাসায় এসে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর স্ত্রী মীমের কাছে বাইরে যাওয়ার কথা বলে আবার বের হন।
এর কিছুক্ষণ পরই ধলপুর ওয়াসা গেট সংলগ্ন সিটি পল্লীর মাঠে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ও স্বজনরা ছুটে এসে তাঁকে বুকের ডান পাশে গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
স্বজনদের কান্না ও অজানা কারণ
হাসপাতালে বিলাপ করতে করতে নিহতের স্ত্রী মীম বলেন, “বাসার অদূরে সিটি পল্লীর মাঠে তাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। আমার স্বামীর সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল না। কারা কী কারণে তাকে এভাবে গুলি করে হত্যা করল কিছুই বুঝতে পারছি না।”
স্বজনরা জানান, নিহত মারুফ ধলপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। মাত্র এক বছর আগে তিনি বিয়ে করেন।
পুলিশ ও হাসপাতালের বক্তব্য
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, নিহতের বুকের ডান পাশে মারাত্মক গুলির ক্ষত রয়েছে।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।














