আদালতে বিচারাধীন গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষকে পদত্যাগের চাপ ও জোরপূর্বক দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাকর্মীদের সাথে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়াবহ ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১০/বি রোডের ২৬ ও ২৬/এ নম্বর প্লটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মূল ফটক ভেঙে প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ড্যাবের ব্যানারে একদল নেতাকর্মী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সরাসরি মারামারিতে রূপ নেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে জানান, সংঘর্ষ চলাকালে মূল ফটক ভেঙে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
এদিকে ‘হাসপাতাল দখলের চেষ্টা’র প্রতিবাদে ক্যাম্পাস জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবার পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনি সমাধানের দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি ও আইনি জটিলতা
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক এ কে এম আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
তবে অপর পক্ষের দাবি, পুরো বিষয়টি এখনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার আগেই পেশিশক্তি প্রয়োগ করে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টায় সেখানে আতঙ্কজনক পরিবেশের তৈরি হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানা জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ফয়সালা না হলে সাধারণ রোগী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।













