অনলাইন জুয়া

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

বাতিল হলো ১৫৯ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আইন

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৫৯ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ‘The Public Gambling Act, 1867’ বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় কার্যত সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আধুনিক অনলাইন জুয়া, অ্যাপভিত্তিক স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন নিয়ন্ত্রণে পুরোনো আইনি কাঠামোতে পর্যাপ্ত ধারা ছিল না। ফলে সেই পুরোনো আইন পুরোপুরি বাতিল করে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় যুগোপযোগী এই নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

অপরাধের আওতা ও নতুন সংজ্ঞা

আইনটিতে আধুনিক ডিজিটাল অপরাধের ধরন বিবেচনা করে প্রথমবারের মতো ‘অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া’, ‘অনলাইন বেটিং’, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’, ‘ঘোস্ট সিম’ এবং ‘ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট’ বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলোকে শাস্তিযোগ্য বড় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে:

  • জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা।
  • আন্তর্জাতিক বা বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের দেশীয় প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা।
  • ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ, গ্রুপ বা চ্যানেল পরিচালনা করা।
  • জুয়ার সরঞ্জাম, সফটওয়্যার বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা।
  • অনলাইন বা অফলাইনে জুয়া ও বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন দেওয়া এবং স্পনসরশিপ গ্রহণ করা।

সব অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিপিএন (VPN), ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত অনলাইন জুয়া, অর্থপাচার (Money Laundering) এবং সাইবার প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এর পেছনে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

এই অপরাধগুলো কঠোরভাবে দমন করতে আইনের আওতাভুক্ত সকল অপরাধকে আমলযোগ্য (Cognizable) এবং অজামিনযোগ্য (Non-Bailable) করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচার দেশের সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক শাস্তির জন্য মোবাইল কোর্টের (Executive Magistrate) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।