ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এই আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিশাল জয় পেয়েছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফলে তাঁর এই বিজয়ের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সব কেন্দ্রে হাসনাতের একক আধিপত্য
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংসদীয় আসনের মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতেই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এই সমন্বয়কের পক্ষে শুরু থেকেই যে গণজোয়ার দেখা গিয়েছিল, ব্যালট বক্সে তার প্রতিফলন ঘটেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একচেটিয়া সমর্থন তাঁর এই বিজয়কে সহজ করে দিয়েছে।
আরো পড়ুন- ব্যালটে বড় চমক: বেসরকারি ফলাফলে ১৭ আসনে জয়ী জামায়াতের যেসকল প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়
এই আসনে বিএনপি সমর্থিত ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হাসনাত আবদুল্লাহর জনপ্রিয়তার কাছে কোনো সুবিধা করতে পারেননি। উল্লেখ্য, এই আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ভোটের সমীকরণ হাসনাতের পক্ষে চলে যায়।
বিজয় মিছিল না করার অনুরোধ
ফলাফল ঘোষণার পর দেবিদ্বারের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ ‘শাপলা কলি’ ও ‘হাসনাত আবদুল্লাহ’ স্লোগানে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। তবে বিজয়ী হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের উসকানিমূলক আচরণ বা বিজয় মিছিল না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই বিজয় ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিজয়। আমরা কোনো শোডাউন করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করতে চাই না।”










