শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও আহতদের তালিকা
বিকেল ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা এবং রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলায় সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক জানান, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, তবে চিকিৎসকদের মতে কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই।
ইনকিলাব মঞ্চের দাবি
আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থা প্রয়োজন। তারা বলেন:
“পুলিশ আমাদের ওপর বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু পুলিশ নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে।”
রাতে ফের উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বিকেলের ঘটনার প্রতিবাদে রাত পৌনে ৮টার দিকে শাহবাগে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পুনরায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা কাঁটাবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে সরে যায়। বর্তমানে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং শাহবাগ থানার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, আজকের এই আন্দোলনের মূলে রয়েছে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের ঘোষণা আসছে, ততক্ষণ তাদের কর্মসূচি চলবে।
–নিউজ ডেস্ক










