ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সারাদেশে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের গোপন আঁতাত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শর্তেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।

সারাদেশে সহিংসতা ও হামলার চিত্র

আসিফ মাহমুদ জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে এনসিপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের এজেন্ট এবং কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে । তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এই হামলাগুলো চালাচ্ছে এবং এটি মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশোধ বলে তারা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের মতে, বিএনপি যখন বুঝতে পেরেছিল তারা এককভাবে জনগণের ম্যান্ডেট পাবে না, তখন তারা আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতায় গিয়েছে। তিনি তারেক রহমানের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, শেখ হাসিনার সন্তানরা চাইলে রাজনীতিতে ফিরতে পারেন—এটি মূলত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনেরই ইঙ্গিত । তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পটুয়াখালীর মতো অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস পুনরায় চালু করার দায়িত্ব বিএনপি নেতারা নিচ্ছেন, যা বর্তমান আইনের পরিপন্থী।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান

ঢাকা-৮ এবং ঢাকা-১৩ আসনসহ কয়েকটি আসনে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন যে, তারা ইতিমধ্যে পুনর্গণনার জন্য রিভিউ আবেদন করেছেন । তিনি নির্বাচন কমিশনকে ভিডিও রেকর্ড এবং কল রেকর্ডের প্রমাণাদি খতিয়ে দেখে সঠিকভাবে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান।

নরেন্দ্র মোদীর আগমন প্রসঙ্গে

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালে মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ২১ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন । বিগত ১৭-২০ বছরের রাজনৈতিক সংকটে ভারতের আধিপত্যবাদী ভূমিকার কারণে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ তারা প্রত্যাশা করেন না।

আসিফ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। ১১ দলীয় জোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি রাজপথে থেকে এর জবাব দেবে।

সূত্র: এখন টিভি