গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫, জুম’আর নামাজের পর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি — “ইসকনের সারাদেশে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এবং ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও গণজমায়েত” অনুষ্ঠিত হয়।
ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে উক্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন উত্তরার সাধারণ ছাত্র-জনতা, বৃহত্তর উত্তরা ওলামা পরিষদ, IUBAT বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, এবং বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিগণ।
কর্মসূচিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে, জুম’আর নামাজ শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের বাইতুন নুর মসজিদ সংলগ্ন পুলিশ বক্সের সামনে থেকে শুরু হয়। শান্তিপূর্ণভাবে স্লোগান চলাকালীন মুহূর্তে একজন ব্যক্তি আকস্মিকভাবে একটি খেলনার (ডামি) রাইফেল নিয়ে মিছিলে অনুপ্রবেশ করেন। আয়োজকদের কয়েকজন দায়িত্বশীল সঙ্গে সঙ্গে তাকে মিছিল থেকে সরিয়ে নেন।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মিছিলটি জমজম চৌরাস্তার সামনে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।
কর্মসূচি শেষে উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিদুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের সঙ্গে উত্তরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
তবে দুঃখজনকভাবে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে কিছু ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র ঐ অনুপ্রবেশকারীর ডামি রাইফেল সংক্রান্ত ১০-১৫ সেকেন্ডের ফুটেজ আলাদা করে প্রকাশ করছে। ঐ ফুটেজটি বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে গতকালের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে।
আমরা এই ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্নও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় —
যখন সারাদেশে ইসকনের বিভিন্ন উগ্র, সহিংস ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড, গুম, খুন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন কেনো রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
এবং কেনো অনেক গণমাধ্যম এসব সংবেদনশীল ইস্যুকে উপেক্ষা করছে বা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না?
আমরা বিনীতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাই— এ ধরনের গুরুতর অভিযোগগুলোকে যথাযথভাবে তদন্ত ও যাচাই করে, সত্যের স্বচ্ছ উপস্থাপনার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরুন।
আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই —
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্র যেখানে যুগ যুগ ধরে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছে।
আমরা সাধারণ জনগণ হিসেবে কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ঘৃণাবাদ বা উগ্রবাদকে কখনোই সমর্থন করি না — বরং এর বিপরীতে শান্তি, সংযম ও সহনশীলতার পক্ষে অবস্থান করি।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি —
গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যার মাধ্যমে জনগণ সঠিক তথ্যের প্রত্যাশা করে। তাই গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন যাচাইবাছাই ছাড়া কোনো একপাক্ষিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রকাশ কেবল সমাজে ভুল বোঝাবুঝি ও অস্থিরতা বাড়ায় — যা একান্তই অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।
আমরা শান্তিপূর্ণ ও সংযত পথেই সত্য প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি এবং প্রত্যাশা করছি — সংবাদমাধ্যমসমূহ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
— আয়োজক কমিটি (ছাত্র-জনতা ও সর্ব সাধারণ)








