রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে প্রাইভেটকারের ৪ যাত্রী নিহতের ঘটনায় অবহেলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো. মোহসীন বলেন, স্পষ্ট অবহেলা ছিল। এ ধরনের স্থানান্তরের জন্য যে পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার ছিল, তা করা হয়নি। তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গার্ডার স্তানান্তরের সময় ক্রেন উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন দুইজন।

উত্তরার জসিম উদ্দিন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের একপাশে যানবাহন চলাচল করে। উড়াল সড়কের একটি গার্ডার ক্রেনে স্থানান্তর করার সময় চলতে থাকা প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে যায়। প্রকাণ্ড এই গার্ডারের চাপে থেতলে যায় ঢাকা মেট্রো গ-১১৬০০৮ নম্বরের প্রাইভেট কারটি। গাড়ির ভেতরে যারা ছিলেন তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় টেনে বের করে স্থানীয়রা। এর আগেও এই প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী ও গার্ডার পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন রুবেল (৫০), ঝর্ণা (২৮), জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। আহতরা হলেন হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি(২১)। আহতদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়িতে ছিলেন নবদম্পতি ও তাদের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন। নবদম্পতির বউ ভাতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ফিরছিলেন তারা। কিন্তু একসাথে কাটানো আনন্দময় সময় হঠাৎই রূপ নিলো স্বজন হারানোর বিষাদে। স্বজনদের আহাজারিতে এখন ভারী হয়ে আছে উত্তরার জসীমউদ্দিন অ্যাভিনিউ।

আহত হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) হচ্ছেন নবদম্পতি। তারা বসেছিলেন প্রাইভেটকারের পেছনের সিটে। আর নিহতদের মধ্যে জান্নাত ও জাকারিয়ার মা হচ্ছেন ঝর্ণা। আর নিহত রুবেল হৃদয়ের বাবা।

শরিয়তপুর সদরের ঢালী বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল (বর্তমান ঠিকানা- কাওলা) গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। গত শনিবার হৃদয়-রিয়া মনির বিয়ে হয়েছে। আজ কাওলায় হৃদয়দের বাড়িতে ছিল বউভাতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে নিজেই গাড়ি চালিয়ে তাদের আশুলিয়ার খেজুরবাগানে রিয়া মনিদের বাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

সূত্রঃ যমুনা টিভি