রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা থেকে হত্যার মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার স্বামী রাব্বী প্রামাণিককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন এবং ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও অভিযান
এডিসি জুয়েল রানা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। গত দু’দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের পর আজ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় আয়েশার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আয়েশা হত্যার পর পালিয়ে স্বামীর কাছে সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশের একটি সূত্র প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, আয়েশাকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে তাকে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আয়েশা ও তার স্বামীকে নিয়ে পুলিশ সদস্যরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
হত্যাকাণ্ড ও মামলা
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহত লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং মেয়ে নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। মা ও মেয়ের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে নাটোরে দাফন করা হয়।
এই জোড়া খুনের ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও রহস্য
তদন্ত সূত্র জানায়, প্রায় ২০ বছর বয়সী গৃহকর্মী আয়েশা চার দিন আগে কাজে যোগ দেন। তিনি নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং কাজে যোগ দেওয়ার সময় তার কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না।
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আয়েশা সোমবার সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিহত নাফিসার স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গৃহকর্মী আয়েশার স্বামী রাব্বীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
সূত্রঃ ইত্তেফাক







