বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের (জোটের) প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।
২০ আগস্ট ২০২৬-এ সংসদীয় নির্বাচনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিন, শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
বঙ্গভবন ও সংসদ সচিবালয়ের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে, ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয়।
আগস্ট মাসে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হলে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রত্যক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
আরো পড়ুন- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিএনপির জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান মনোনয়নপত্র জমা দেন।
দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার প্রক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল তার দীর্ঘ ১৫ বছরের বিএনপির মহাসচিব পদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।
২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদীয় ভোটে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওলি আহমদকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন তিনি।
বর্তমান রাস্ট্রপতির জীবনি পড়ুন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: জীবনপঞ্জি ও রাজনৈতিক আত্মজীবনী
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে মির্জা ফখরুল ২০২৪ সালে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক দশক বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি তার নীতিগত অবস্থানে একটি শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্র, সব ধর্মের সমান অধিকার, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার প্রসার ঘটানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
— নিউজ ডেস্ক













