Home নির্বাচন ২০২৬ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৫০ লাখ টাকাসহ জামায়াত আমির আটক; ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি...

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৫০ লাখ টাকাসহ জামায়াত আমির আটক; ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি দলের

169
0
৫০ লাখ টাকাসহ জামায়াত

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দীন প্রধানকে নগদ ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এই ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ ও রাজনৈতিক ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই দাবি করেন।

জামায়াতের বক্তব্য: ‘ব্যবসায়িক অর্থ ও ষড়যন্ত্র’

সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “এটি এক ধরনের অপপ্রচার ও গভীর ষড়যন্ত্র। উদ্ধারকৃত অর্থ মাওলানা বেলালের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সম্পত্তি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাজানো নাটক সাজিয়েছে।” দলটির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

যেভাবে আটক হলেন বেলাল উদ্দিন

বিমানবন্দর ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় মাওলানা বেলাল উদ্দিনের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছে অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম জানান, “নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর কাছে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। টাকার পরিমাণ অনেক বেশি এবং এর উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে না পারায় তাকে আটক করা হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলমান।”

আটক নেতার দাবি

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় মাওলানা বেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ লাখের কিছু বেশি। তিনি দাবি করেন, “আমি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এই টাকা বহন করছিলাম। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই। টাকার উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমি পরে দেখাতে পারব।”

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

পুলিশ জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধতা যাচাই করা জরুরি। ওসি নাজমুল আলম বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। টাকার প্রকৃত উৎস এবং এর পেছনে কোনো আইনবহির্ভূত উদ্দেশ্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি অবহিত করা হবে।”

নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে একজন জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতার কাছ থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধারের এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।