গোপালগঞ্জে জুলাই বিপ্লবীদের সমাবেশে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন ও শাহবাগ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,
“সরকারের দুর্বলতা ও সিদ্ধান্তহীনতা দেখে মনে হয়, সরকারের ভেতরে কোনো গোপন শক্তি কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তিনি খুবই অসহায়। আমাদের বিশ্বাস, তিনিই দুর্বল এবং এই দুর্বলতা সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্পষ্ট প্রতিফলিত হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, “মিটফোর্ডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি গোপালগঞ্জে হয়েছে। তাই ‘মিস্টার অসহায়’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
“গোপালগঞ্জের ঘটনা একটি অশনি সংকেত। যখন জনগণ ১৯ জুলাইয়ের জাতীয় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই হামলা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। প্রশাসনকে আগে থেকে জানানো হলেও হামলার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য ছিল না।”
তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে বিরোধী মতের সভা-সমাবেশ ঠেকানো হচ্ছে। এখনো জাতি কি সেই ফ্যাসিবাদের অধীনে আছে?”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, “গোপালগঞ্জের হামলায় শুধু আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নয়, প্রশাসনের ভেতরের দোসরদেরও চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সরকারের ভিতরেই যারা ফ্যাসিবাদের দোসর, তারাই এসব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। প্রশাসন থেকে দ্রুত তাদের অপসারণ করতে হবে।”
সাবেক এমপি ড. এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন,
“০৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পরও যারা বিপ্লবীদের ওপর হামলা চালানোর সাহস পায়, তাদের পেছনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই হামলা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।”
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন,
“গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের অংশ। সেখানে সন্ত্রাস হলে তার দায় সরকার এড়াতে পারে না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উচিত বোঝা—এটা হাসিনার নয়, ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ।”
তিনি ১৯ জুলাইয়ের জাতীয় সমাবেশে দলমত নির্বিশেষে জনগণকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান, মো. শামছুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।
–নিউজ ডেস্ক









