আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের উদয় হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার পাশাপাশি কর্নেল (অব:) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে ১০ দলের এক বিস্তৃত রাজনৈতিক মঞ্চ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট নির্বাচনী অঙ্ক এবং আসন সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
গত রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। এসময় তিনি জানান, এটি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আসন ভাগাভাগি নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার একটি ‘নৈতিক অবস্থান’।
সমঝোতার মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, “দেশ যখন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন শোষণ-বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।” এই জোটে নতুন করে যুক্ত হওয়া এলডিপি এবং এনসিপি জোটের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপস্থিত থাকতে না পারলেও তিনি জোটের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছেন বলে জানানো হয়।
৩০০ আসনে প্রায় চূড়ান্ত সমঝোতা ডা: শফিকুর রহমান জানান, ৩০০ আসনেই নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রায় সব আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত। তিনি বলেন, “এখানে একক কোনো দল আসন বণ্টন করছে না; বরং আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সবার হাতে আসন তুলে দিচ্ছি।” নির্বাচন পরবর্তী সময়েও এই দলগুলো রাজপথে একসাথে কাজ করবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচন কমিশনকে সতর্কবার্তা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “এখনো সবার জন্য সমতল মাঠ (Level Playing Field) তৈরি হয়নি। অতীতের মতো ভোটাধিকার হরণ করলে জাতি তা মেনে নেবে না।” তিনি নির্ধারিত সময়ে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের দাবি জানান।
জোটের শরিক দলসমূহ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা মামুনুল হক।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত-এনসিপি-এলডিপির এই সমঝোতা কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী একটি ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে।
সূত্রঃ নয়া দিগন্ত










