
বছরজুড়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় উত্তপ্ত চট্টগ্রামের রাউজান (চট্টগ্রাম-৬)। ভোটের লড়াইয়েও এখন প্রধান আলোচনার বিষয় এই সহিংসতা।
এর মধ্যেই শেষ মুহূর্তে এই আসনে নাটকীয়ভাবে প্রার্থী বদল করেছে বিএনপি। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন গোলাম আকবর খোন্দকার।
রাউজানের রক্তাক্ত পরিসংখ্যান ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল গত ১৬ মাসে রাউজানে ১৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৩টিই সরাসরি রাজনৈতিক। আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল এবং পাহাড় কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে এসব প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ। এসব ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা মূলত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অথবা গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী ছিলেন। এ ছাড়া এই সময়ে ৩২টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত অর্ধশত মানুষ।
কেন এই প্রার্থী বদল? বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, “প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, জনপ্রিয়তা এবং দলের ‘এক পরিবার এক প্রার্থী’ নীতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তবে চূড়ান্তভাবে কাকে রাখা হবে, তা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সীতাকুণ্ড ও হালিশহরেও নাটকীয় পরিবর্তন রাউজানের পাশাপাশি চট্টগ্রামের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী বদলেছে বিএনপি:
- সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম-৪): কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন আসলাম চৌধুরী। দীর্ঘ ৮ বছর কারাভোগ করা আসলাম চৌধুরীর আগমনে এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
- হালিশহর-পাহাড়তলী (চট্টগ্রাম-১০): এই আসনে প্রথমে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মূলত দলীয় কোন্দল মেটাতে এবং জামায়াতের প্রভাব কমাতে এই অভিজ্ঞ নেতাকে বেছে নিয়েছে দল।
ভোটের মাঠে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, আসলাম চৌধুরী ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী নেতারা নির্বাচনী মাঠে ফেরায় চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড ও হালিশহরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সাথে বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম






