Home অপরাধ নির্বাচনের পরপরই আশুলিয়ায় সক্রিয় চাঁদাবাজরা: বিএনপি পরিচয়ে চাঁদা নিতে গিয়ে গণধোলাই

নির্বাচনের পরপরই আশুলিয়ায় সক্রিয় চাঁদাবাজরা: বিএনপি পরিচয়ে চাঁদা নিতে গিয়ে গণধোলাই

95
0
আশুলিয়ায় বাসে চাঁদাবাজি বিএনপি পরিচয়

নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সাভারের আশুলিয়ায় সড়কে চাঁদাবাজির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে বাসে চাঁদাবাজির সময় এক যুবককে গণধোলাই দেওয়ার ভিডিওটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সাভারের আশুলিয়ায় গণপরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের আশুলিয়া এলাকায় বিএনপি কর্মী পরিচয়ে কয়েকটি বাস থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়কালে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে একদল যুবক। এ সময় উত্তেজিত জনতার হাতে ধরা পড়ে এক চাঁদাবাজ গণধোলাইয়ের শিকার হন।

যেভাবে শুরু হয় ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসের যাত্রীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে চলাচলকারী বাসগুলো থামিয়ে নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করছিল। তারা বিশেষ করে বিএনপি-এর নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

সোহাগ পরিবহনের একটি বাস থেকে চাঁদা নিতে গেলে বাসের চালক ও হেলপাররা প্রতিবাদ করেন। এতে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে বাসের যাত্রীরাও নেমে এসে চাঁদাবাজদের ধাওয়া দেন। অন্য সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও একজনকে ধরে ফেলে জনতা এবং ঘটনাস্থলেই গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।

পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির বক্তব্য

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, “চাঁদাবাজির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে অভিযুক্তদের তারা চেনেন না এবং তারা দলের কোনো স্তরের কর্মী নন।”

সাভার-আশুলিয়া এলাকায় উত্তাপ

নির্বাচনের পরপরই এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন দেশ সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তখন সড়কের এই চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

সূত্র ও ছবি: কালের কন্ঠ