ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “এ বিজয় বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। তবে এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া বার্তা
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার খবরের প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, “শত নির্যাতন ও নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। যেকোনো মূল্যে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে হবে। মনে রাখবেন, দায়িত্বশীলতা ও সেবার মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করতে হবে।”
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, সব গণতান্ত্রিক শক্তি মিলে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।” এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর: ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন ২০০ আসন নিশ্চিত করার পেছনে কোনো ‘কৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল কি না জানতে চাইলে তারেক রহমান স্মিত হেসে উত্তর দেন, “আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল জনগণকে পাশে আনা। আমরা চেয়েছি মানুষ আমাদের ভোট দিক, সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি। মানুষের মন জয় করাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
বিদেশি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা আইনের শাসনের আলোকে বিবেচনা করতে চাই।” চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থ আগে রেখে দুই দেশের পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ।







