ছাত্রদলে অসন্তোষ অনুষ্ঠান বয়কট
banner

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা বয়কট করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভের’ বাইরের নেতাদের একটি বড় অংশ। তারা ভেতরে না গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।

রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

কেন ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতারা?

বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত নিজস্ব অনুষ্ঠানেই সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ‘সুপার ফাইভ’ নেতাসহ অন্য বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বশীলদের মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একাধিক সহসভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলেরই মূল অনুষ্ঠান। অথচ সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা স্বত্ত্বেও নেতাদের এড়িয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সভা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বয়কটের মুখেও অনুষ্ঠান অব্যাহত

কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বিরাট অংশের এই বয়কট ও বাইরে অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেই টিএসসি মিলনায়তনের ভেতরে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বরত) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাইরে অবস্থান নেন যেসব নেতা

অনুষ্ঠান বয়কট করে টিএসসি মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষুব্ধ নেতাদের মধ্যে ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুর আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এইচ এম আবু জাফর, সাফি ইসলাম, শাহজাহান শাওন, মিঠুন কুমার দাস, সজিব মজুমদার, আরিফুল ইসলাম, আবুল বাসার, হাফিজুল্লাহ হীরা, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত ও অলিউজ্জামান সোহেল।

এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ফারুক হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, হাসানুর রহমান হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান রুবেল, বায়জিদ হোসেন, মহিউদ্দিন রুবেল, ইব্রাহিম কার্দি, তানভীর আহমেদ তানু, তরিকুল ইসলাম তারেক, ফারহান আরিফুর রহমান, আসাদুজ্জামান রিংকু, গোলাম কিবরিয়া, শাকিল আহমেদ, শাকিল চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন মানিক, শামীম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, সোহেল রানা, রাজু আহমেদ, সাদ্দাম হোসেন, জাহিদ হাসান শাকিল ও শাহিনুর রহমান শাহিন অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে বাইরে অবস্থান করেন।

পাশাপাশি সহ-সাধারণ সম্পাদক আফজাল রহমান ও আশিকুর রহমান সরকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ এবং পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতা মূল আলোচনা সভা বয়কট করেন। এই ঘটনার পর ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভ নতুন করে প্রকাশ্যে এলো।