মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদে ‘ভারী আঘাত’ হেনেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অঞ্চলের যেসব মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়েছিল, ঠিক সেই উৎসস্থলগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করে এই ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চারটি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উপর্যুপরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর এবং জর্ডানে একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করার দাবি করেছে।
সংঘাতের নেপথ্যে: হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও মার্কিন ‘বর্বরোচিত হামলা’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ভোরের দিকে এই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘অ্যাপাচি হেলিকপ্টার’ বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে বুধবার ভোররাতে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় “বর্বরোচিত হামলা” চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী।
মার্কিন এই আগ্রাসনকে জাতিসংঘের সনদের অনুচ্ছেদ ২ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধকরণের মৌলিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তেহরান। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, “এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের শাসক প্রশাসন আবারও তাদের অপরাধী ও যুদ্ধপ্রিয় চরিত্র প্রমাণ করেছে।”
আরো পড়ুন- ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সমন্বয় করতে মোসাদ প্রধান আমিরাতে গোপন সফর করেছেন: WSJ
‘স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ তেহরানের
ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা অ্যাকশনে যায় ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান তার “স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অধিকার” প্রয়োগ করেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার রাতেই আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে জরুরি টেলিফোন সংলাপে মিলিত হন। আলাপকালে আরাঘচি মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমান জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ পদক্ষেপ নিয়েছে। তুর্কি ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আঞ্চলিক দেশ ও জাতিসংঘকে কড়া সতর্কবার্তা
এই হামলার পর পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলের দেশগুলোসহ অঞ্চলের সব দেশকে কঠোরভাবে তাদের “আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব” মনে করিয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো দেশ যেন তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে সমর্থন না দেয়। হামলার উৎসস্থলসহ আগ্রাসীদের সহায়তাকারী যেকোনো লজিস্টিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করতে ইরান দ্বিধা করবে না।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই “আগ্রাসী অপরাধ”-এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র: প্রেসটিভি ইরান










