দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারির পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কেন এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা?

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এই তথ্যের পর দেশের সব প্রবেশপথ ও সংবেদনশীল পয়েন্টে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়।

বিমানবন্দরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি

বেবিচক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দেশের আটটি প্রধান বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে সেখানে কর্মরত সব ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তার প্রধান দিকগুলো হলো:

  • অতিরিক্ত তল্লাশি: বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল (আগমণী) ও ডিপারচার (বহির্গমন) গেটে প্রতিটি যাত্রীকে নিবিড় তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
  • গোয়েন্দা নজরদারি: পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
  • সংবেদনশীল স্থাপনা: রাডার স্টেশন, ফুয়েল স্টোরেজ এবং টার্মিনাল এরিয়ার প্রবেশপথে সশস্ত্র পাহারা বাড়ানো হয়েছে।
  • ডগ স্কোয়াড ও স্ক্যানিং: সন্দেহজনক ব্যাগ বা বস্তুর জন্য ডগ স্কোয়াড এবং অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে অপরাধীদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু জনসমাগমস্থলও হতে পারে। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে পার্কিং এরিয়াতেও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই; তবে সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন- জ্বালানির দাম বাড়লেও কাটেনি ভোগান্তি; তেলের লাইনে অন্তহীন অপেক্ষা ও হাহাকার

“যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই কড়াকড়ি। আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি।” — বেবিচক সূত্র

উপসংহার

দেশের আকাশপথ ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত বিমান চলাচলের সময়সূচীতে কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি, তবে বাড়তি তল্লাশির কারণে যাত্রীদের হাতে সময় নিয়ে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।