ভারত ও বাংলাদেশের আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে গেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। সোমবার (২৩ মার্চ) রাতেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের বিমানে করে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। আজ মঙ্গলবার তাদের দিল্লির এনআইএ বিশেষ আদালতে তোলার কথা রয়েছে।
কেন দিল্লি নিয়ে যাওয়া হলো?
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, গত ২২ মার্চ বিধাননগর আদালতে অভিযুক্তদের জেরা করার আবেদন জানায় এনআইএ। প্রাথমিক সম্মতির পর ২৩ মার্চ সকালে এনআইএ পুনরায় একটি পিটিশন দাখিল করে। সেখানে তারা জানায়, কলকাতার দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে অভিযুক্তদের রাখা বা সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা আমলে নিয়ে বিচারক তাদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন।
আদালতের নির্দেশ ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে গত রবিবার বিচারক নিশান মজুমদার ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, এই একই মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে আগামী ৩ এপ্রিল পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।
নিজেকে নির্দোষ দাবি ফয়সালের
আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। সিসিটিভিতে আমাকে দেখা গেলেও গুলি করার কোনো প্রমাণ নেই। ঘটনার সময় আমি বাংলাদেশেই ছিলাম।” তবে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
তদন্তের গতিপথ
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো বড় আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা বের করতেই এনআইএ এই দুই অভিযুক্তকে দিল্লিতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে। দিল্লির কেন্দ্রীয় সদর দফতরে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।













