আইআরজিসি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ আজ রবিবার (১৫ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন ‘সমাবেশ কেন্দ্র’

আইআরজিসি-র প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা ইরাকের এরবিলে অবস্থিত আল-হারির (Al-Harir) বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সমাবেশ কেন্দ্র’ লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত আলি আল সালেমআরিফজান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আঘাত হানা হয়েছে।

অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪: ৫২তম ধাপ

বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলাগুলো ইরানের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ (ওয়াদায়ে সাদিক-৪)-এর ৫২তম ধাপের অংশ। সম্প্রতি ইরানের শিল্পাঞ্চলে কর্মরত কর্মীদের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

নেতানিয়াহুকে হত্যার চূড়ান্ত হুমকি

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি এই বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “যদি তিনি (নেতানিয়াহু) এখনও জীবিত থাকেন, তবে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করব এবং হত্যার চেষ্টা চালিয়ে যাব।” এই প্রথম তেহরান থেকে নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে এমন সুনির্দিষ্ট ও কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শঙ্কা

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, ইরানের এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মধ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চলের হত্যার প্রতিশোধ এবং নেতানিয়াহুকে সরাসরি টার্গেট করার ঘোষণা এই যুদ্ধকে এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।