ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি হাদিকে ‘বিপ্লবী রক্তে উজ্জীবিত প্রতিবাদের এক আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ ও রাষ্ট্রীয় শোক: বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আমাকে টেলিফোনে এই সংবাদটি জানিয়েছেন।”
হাদির স্মরণে আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
পরিবারের দায়িত্ব ও বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি: প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন, শহিদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের সকল দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওসমান হাদি ছিলেন পরাজিত ফ্যাসিস্টদের শত্রু। তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে বিপ্লবীদের ভয় দেখানোর অপচেষ্টা সফল হবে না। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান হাদি। প্রথমে ঢামেক ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।













