শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৪ জনের
ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে আকস্মিক কেঁপে ওঠে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

নরসিংদীকে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহুতল ভবনগুলো দুলতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে।

হতাহতের চিত্র: ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ

ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে ছিটকে পড়া বা দেয়াল ধসে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  • ঢাকা: পুরান ঢাকার কসাইটুলি এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পথচারীদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, ৩০ বছর বয়সী যুবক সবুজ এবং ৮ বছরের এক শিশু। নিহতদের মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
  • নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে কম্পনের সময় রাস্তার পাশের দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক নবজাতক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগম এবং প্রতিবেশী জেসমিন বেগম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান।

সর্বাধিক ক্ষতি ও আহত নরসিংদীতে

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

  • গাবতলী এলাকা: শহরের গাবতলী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের দেয়াল ধসে পাশের একতলা বাড়ির ওপর পড়ে। এতে বাড়ির মালিক দেলোয়ার এবং তাঁর দুই সন্তান (ওমর ও তাসফিয়া) আহত হন। গুরুতর অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
  • সার্বিক পরিস্থিতি: জেলার ছয়টি উপজেলা থেকেই ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. গুলশানা কবির জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে অর্ধশতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

হাসপাতাল ও উদ্ধার কার্যক্রম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে:

  • নরসিংদী: ৫৫ জন।
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ: ১০ জন।
  • গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেল: ১০ জন।

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড

ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জাতীয় গ্রিড সাবস্টেশনে আগুন ধরে যায়। সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।

  • ফায়ার সার্ভিসের পদক্ষেপ: পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল শহিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
  • কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, ভূমিকম্পের আঘাতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো সচল করার কাজ চলছে।