প্রতিদিনের মতো সূর্য উঠেছিল।
পাখির কূজনে চারপাশ জেগেছিল।
পনেরো বর্ষে পা দেয়া অগোছালো মেয়েটি ও গুছিয়ে নিয়েছিলো।
বিনুনি দুইটি সামনে এনে মাথা যতটা সম্ভব নিচু করে যাচ্ছিলো।
অনেকটা মলিন বিমর্ষতা চোখে মুখে, কারণ ও মেয়ে জানতো না।
বুঝতো এক জোড়া চোখের মায়া অনেক দিন তাকে ছুঁয়ে যায় না।
আচমকা অপ্রস্তুত মেয়েটি দাঁড়িয়ে 
হলুদ খামটি নিল হাত বাড়িয়ে।
এলোমেলো পা দুটোকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রেখে চলছে স্কুল পথে।
ঘোর কাটেনি তখনও, ঘটে যাওয়া দৃশ্যটি লেগে আছে দু’চোখে।
কাঁপা হাতে, অতি সন্তর্পণে বেঞ্চিতে রাখা ব্যাগ থেকে খামটি বের করলে,
একটা চিরকুট আর শুকিয়ে কালচে হয়ে যাওয়া গোলাপ পেল তাতে।
চিরকুটে লেখা…
প্রথম দেখেই লেগেছিল ভালো
দিন, সপ্তাহ, বহু মাস গড়ালো।
বর্ণ,গন্ধ হারালো, যত্নের পরেও
শুকিয়ে গেল তাজা ফুল।
ভালো লাগে ভীষণ, বলবে কি কথা,
না থাকবে চুপ, বুঝবে আমায় ভুল ?
স্কুল ফিরতি পথে হলুদ গাঁদা ও মনে হলো রাস্তায় আবীর দিল ঢেলে ,
কৃষ্ণচূড়া ও পলাশ হেসে উঠলো মেয়েটির গালে লাল আভা দেখে।
গোধুলি বেলায় গুন-গুন সুর শুনে
কোকিল ও নীড়ে পালালো।
চঞ্চলা হরিণীর মতো মেয়েটি মৃদুমন্দ হাওয়ার মতো ধীর স্থির হয়ে গেলো।
চোখের পাতায় ঘুম নয়,
তারারা জেগে রয়।
ফুল, পাখি, চাঁদ,জোছনা
ভালোলাগা হয়।
তবে কি মেয়েটির জীবনে
এসেছিল প্রথম ফাগুন?
বুকের ভেতর চৈত্রের
আগুন রোদের দহন!
~ জেসমীন আক্তার~












