রাজধানীর উত্তরা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার যে প্রাইভেটকারটির উপর পড়ে তাতে ছিল এক নবদম্পতি ও তাদের পরিবারের লোকজন।

এ দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা বরের বাবা-মা’সহ স্বজনদের প্রাণ গেলেও এখনো বেঁচে রয়েছেন বর হৃদয় (২৬) ও তার নববিবাহিতা স্ত্রী রিয়া মনি (২১)।

নিহতরা হলেন, হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝরনা (২৮) এবং ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)।

যেভাবে উদ্ধার হয় ৫ মরদেহ:

ঘটনার তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চাপাপড়া গাড়ির ওপর থেকে গার্ডারটি সরানো হয়। এরপর গাড়ির ভেতর থেকে একের পর এক লাশ বের করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিআরটি প্রকল্পের জন্য নির্মিত গার্ডার একটি ক্রেন দিয়ে সরানো হচ্ছিল। এসময় গার্ডারটি হঠাৎ করে রাস্তায় চলমান প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে যায়। গার্ডারটি ক্রেন থেকে ছুটে যায়নি, বরং ক্রেনের একপাশ উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকার থেকে নিহতদের কোনোভাবেই বের করা যাচ্ছিল না। গার্ডারের নিচে প্রাইভেটকারটি চাপা পড়ে থাকায় মরদেহ বের করতে পারছিলেন না ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে গার্ডার সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভসের ঢাকা জোন-৩ উপ সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান বলেন, ১৫০ টন ওজনের গার্ডার হওয়ায় উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়নি। পরে এক্সক্যাভেটর আনা হয়। এক্সক্যাভেটর আনতে দেরি হওয়ায় উদ্ধার কাজে বিলম্ব হয়। তিন ঘণ্টা পর এক্সক্যাভেটর দিয়ে গার্ডার একটু উঁচু করে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হৃদয়ের চাচাতো ভাই রাকিব (১৯) বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। কিন্তু এতো সময় পরও গাড়ি থেকে মরদেহগুলো বের করতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ভেতরে যদি কেউ বেঁচে থেকেও থাকেন তাহলে এতোক্ষণে মারা গেছেন।

রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

‘সরকার কীভাবে এভাবে অব্যবস্থাপনার মধ্যে কাজ করছে? আমরা কার কাছে বিচার দিব! আমাদের অন্তত লাশগুলো বের করে দিক। কিন্তু এখানে তো কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি নেই।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মো: মহসিন জানান, দুর্ঘটনায় হতাহতরা সবাই একটি বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

জানা গেছে, শরীয়তপুর সদরের ঢালী বাজার এলাকার বাসিন্দা রিয়া মনির সাথে হৃদয়ের বিয়ে হয় গত শনিবার। আজ সোমবার রাজধানীর কাওলায় হৃদয়দের বাড়িতে ছিল বউভাতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে রিয়ার বাবা মো: রুবেল গাড়ি চালিয়ে তাদের আশুলিয়ার খেজুরবাগানে রিয়াদের বাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয় ও রিয়ামনি এখন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।