ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতার ফতোয়া

ইরানের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরু আয়াতোল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর ফতোয়া জারি করেছেন।

তিনি তাদের ‘মোহারেব’ অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিউ ইয়র্ক সানের বরাতে এই খবর জানা গেছে।

সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর চালানো মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই ফতোয়া জারি করা হয়। আয়াতোল্লাহ মাকারেমের মতে, এই হামলা ইসলামী উম্মাহ ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত, যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হামলার ক্ষয়ক্ষতি সীমিত বলে উল্লেখ করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা সফল হয়েছে। তবে ফতোয়ার বিষয়ে এখনো ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ‘মোহারেব’ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, ক্রুশবিদ্ধকরণ, অঙ্গচ্ছেদ বা নির্বাসন হতে পারে। আয়াতোল্লাহ মাকারেম বলেন, “যারা মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও নেতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।”

এদিকে, ব্রিটিশ-ইরানি ভাষ্যকার নিয়াক ঘোরবানি এই ফতোয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় উস্কানি বলে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান।

প্রসঙ্গত, ১৩ জুন ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কেন্দ্রের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হয় এবং ইরানের আরও তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। ট্রাম্প এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইউরেনিয়াম মজুত করে ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হয়, তবে আমেরিকা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

ইরানে ধর্মীয় ফতোয়া জারির ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বহুবার এমন ঘোষণা এসেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ১৯৮৯ সালে আয়াতোল্লাহ খোমেনির পক্ষ থেকে লেখক সালমান রুশদির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি। তার উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল। ওই ফতোয়ার ফলে রুশদি আত্মগোপনে চলে যান, একটি হত্যাকাণ্ড এবং একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ছুরিকাঘাতে তিনি একটি চোখ হারান।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট