Home বাংলাদেশ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ১২ নির্দেশনা: নভেম্বর থেকে খুলছে প্রবাল দ্বীপ

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ১২ নির্দেশনা: নভেম্বর থেকে খুলছে প্রবাল দ্বীপ

345
0
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ১২ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশ রক্ষায় এবার ভ্রমণকারীদের জন্য জারি করা হয়েছে কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা

বুধবার (২২ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের সময়সূচি ও নিয়ন্ত্রণ

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রণীত “সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা” অনুযায়ী এসব বিধান কার্যকর করা হয়েছে।

নভেম্বর মাসে দ্বীপে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে — রাত্রিযাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকরা রাত্রিযাপনের অনুমতি পাবেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।

ভ্রমণ অনুমতি ও টিকিট ব্যবস্থা

১. সেন্টমার্টিনগামী কোনো নৌযান বিআইডব্লিউটিএপরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া চলাচল করতে পারবে না।

২️. সকল পর্যটককে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে।প্রতিটি টিকিটে থাকবে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড, যা স্ক্যানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

৩️. দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও উপস্থিতি নিয়ন্ত্রিত থাকবে—অর্থাৎ নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পর্যটক একদিনে প্রবেশ করতে পারবেন না।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নতুন বিধিনিষেধ

৪. সেন্টমার্টিনের সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা বা বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৫. কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক বা অন্য কোনো প্রাণীর ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয়।

৬. সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা

৭. নিষিদ্ধ পলিথিন বা একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (যেমন চিপস প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, মিনিপ্যাক শ্যাম্পু, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের বোতল) বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

৮. পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক বহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো যায়

⚠️ পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বার্তা

সরকার জানিয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ইতিমধ্যে বিপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপ্রতিরোধ্য পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ ও সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতির কারণে দ্বীপটি রক্ষায় এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন,

“সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষাই এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য। নিয়ম ভঙ্গ করলে পর্যটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটভূমি

বাংলাদেশের দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত ছোট্ট এই প্রবাল দ্বীপটি বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যময় এলাকা। এখানে রয়েছে ২৫০টিরও বেশি প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৩০টির বেশি প্রজাতির প্রবাল, এবং বহু বিরল পাখি ও কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র।

সেন্টমার্টিনকে টিকিয়ে রাখতে এবারই প্রথমবারের মতো পর্যটন কার্যক্রমে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পর্যটক সংখ্যা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবে।

–নিউজ ডেস্ক