মেয়ের নিথর দেহ শায়িত কাঠের কফিনে বারবার চুমু খাচ্ছিলেন বাবা। কাঁপা কণ্ঠে বলছিলেন—“আমার কলিজার টুকরা ছিল সে।”
সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ৯ বছরের মেহেনাজ আক্তার হুমায়রা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তার বাবা-মা—স্কুলটিরই শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিণী সুমি আক্তার।
হুমায়রা ছিল টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া ইউনিয়নের কেরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের একমাত্র মেয়ে। দুর্ঘটনার সময় সে স্কুলে ক্লাসে ছিল। বিধ্বস্ত বিমানটি সরাসরি গিয়ে পড়ে তার শ্রেণিকক্ষে—আর সেখানেই থেমে যায় ছোট্ট প্রাণের স্বপ্নযাত্রা।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, “খিলক্ষেত থেকে খবর পেয়েই ছুটে যাই উত্তরায়। প্রথমে ঢুকতে দেয়নি, পরে কষ্ট করে ভেতরে গিয়ে দেখি—বিমানটা ঠিক আমার মেয়ের ক্লাসেই পড়েছে।”
তার কণ্ঠে প্রশ্ন—“ঢাকার মতো ঘনবসতি শহরে কেন এই ধরনের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট? কার অদূরদর্শিতার কারণে আজ আমার শিশুটি আর নেই? একমাত্র সন্তান হারিয়ে আমি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।”
ভাঙা বুক, নিঃশব্দ কান্না
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় হুমায়রার মরদেহ আনা হয় নিজ গ্রামে। তখন থেকেই কান্না-আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। মা সুমি আক্তার বাকরুদ্ধ, চোখে শুধু শোকের জল। বাবা দেলোয়ার চুপচাপ কফিনে চুমু খেয়ে যাচ্ছিলেন, যেন মেয়েকে একটিবার ফিরিয়ে আনতে চান শেষ স্পর্শে।
মঙ্গলবার সকালে হতেয়া কেরানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শত শত গ্রামবাসী। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ছোট্ট হুমায়রাকে।
‘শুধু আমার না, অনেক বাবা-মায়ের বুক ফেটে গেছে’
কান্নাভেজা কণ্ঠে দেলোয়ার হোসেন বলেন, “শুধু আমি না—এই দুর্ঘটনায় শতাধিক মা-বাবা আজ চোখের পানি ফেলছেন। এ শোক কোনোভাবেই ভাষায় বলা যাবে না। আমরা চাই, আর কোনো বাবা-মা যেন এমন নির্মম পরিণতির শিকার না হন।”
রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিকদার মুহাম্মদ সবুর রেজাসহ স্থানীয় মুসল্লিরা।








