উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
চিকিৎসকদের অনুরোধ সত্ত্বেও নেতাদের আগমনের ফলে হাসপাতালের পরিবেশে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা ও সংক্রমণের ঝুঁকি।
দুর্ঘটনার পর সোমবার দুপুর ৩টার পর থেকে একে একে দগ্ধ শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও মাহফুজ আলমের আগমনে। উপদেষ্টাদের সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তবে স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা দলীয় বহর নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ শতাধিক নেতাকর্মীর ভিড়ে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে। পরিস্থিতি এমন হয় যে, নিজেই ভিড় ঠেলে পথ করে দেন মির্জা ফখরুল।
এ সময় বার্ন ইনস্টিটিউটের এক নারী চিকিৎসক হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, যেন হাসপাতালে ভিড় না করা হয়। এরপর রুহুল কবির রিজভী ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন।
আহত শিক্ষার্থীদের স্বজন ও সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নেতাদের আগমন সংবেদনশীলতা লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক প্রচারণার অপচেষ্টা মাত্র।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আহতদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। ভিড়ে যদি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তার দায় কে নেবে? দয়া করে সবাই দূরে থাকুন, দোয়া করুন।”
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান ডা. মারুফ আলম চৌধুরী ভিডিও বার্তায় বলেন, “আপনারা যত ভিড় করবেন, শিশুদের ঝুঁকি তত বাড়বে। দয়া করে প্রয়োজন ছাড়া কেউ আসবেন না।” একই কথা জানান প্লাস্টিক সার্জন ডা. মাহফুজুল ইসলামও।
তবে অনুরোধ সত্ত্বেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নেতাকর্মী, উৎসুক জনতা, সংবাদকর্মী, ইউটিউবার—সব মিলিয়ে হাসপাতাল হয়ে পড়ে অস্বাভাবিক রকমের ব্যস্ত। এমনকি, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের আগমনের সময় হাসপাতালের প্রবেশপথ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় জনস্রোতে।
এই পরিস্থিতিকে ‘উপদ্রব ও ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত ছিল দূর থেকে সহানুভূতি প্রকাশ করা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা না দেওয়া।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জামায়াতের আমির এলে তাঁকে ঘিরে ধরা সংবাদকর্মী, ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিড়ে হাসপাতালের প্রবেশপথ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। শফিকুর রহমানকে হাত নাড়িয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্ভাষণ করতে দেখা যায়। জামায়াতের আমিরের পর আসেন মির্জা ফখরুল। এমন সংকটের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ভিড়ের সমালোচনা করেন রক্ত দিতে আসা সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা।
সূত্রঃ সমকাল











