সময় টিভি দখলে

রাজধানীর পান্থপথে সময় টিভির প্রধান কার্যালয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী সাংবাদিকদের একটি অংশ চ্যানেলটি পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই এই নাটকীয় পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে।

ঘটনার নেপথ্যে যা জানা যাচ্ছে

অভিযোগ উঠেছে, সময় টিভির সাবেক পরিচালক আমেদ জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি চক্র চ্যানেলটি কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআই (CRI)-এর প্রধান সমন্বয়ক রিভু এবং পাভেল এই প্রক্রিয়ার পেছনে সরাসরি কলকাঠি নাড়ছেন।

মূল অভিযোগ: নিজের প্রভাব খাটানোর জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ১৮০ জন আওয়ামী লীগপন্থী সংবাদকর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছেন আহমেদ জুবায়ের।

সিইও অপসারণ ঘিরে নাটকীয়তা

রোববার সন্ধ্যায় আহমেদ জুবায়ের আকস্মিকভাবে অফিসে প্রবেশ করেন এবং বর্তমান সিইও জুবায়ের বাবুকে একটি ‘অবৈধ’ বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দেন। তবে জুবায়ের বাবু এবং সাধারণ সাংবাদিকরা এই চিঠি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, আহমেদ জুবায়েরের এককভাবে কাউকে বরখাস্ত করার আইনি এখতিয়ার নেই।

বর্তমানে সিইও জুবায়ের বাবু অফিসে অবস্থান করছেন এবং সাধারণ সংবাদকর্মীরা তার সমর্থনে অফিসের ভেতর ও বাইরে অবস্থান নিয়েছেন।

সময় টিভির অতীত ও বর্তমান বিতর্ক

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সময় টিভির ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। তৎকালীন সরকারের অন্যতম ‘প্রচারযন্ত্র’ হিসেবে কাজ করা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নেতিবাচক রিপোর্ট করার অভিযোগে চ্যানেলটি সমালোচিত হয়।

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর:

  • জুবায়ের বাবু সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
  • চ্যানেলের কনটেন্টে গুণগত পরিবর্তন আনা হয়।
  • দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত যোগ্য সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা হয়।

সিইও জুবায়ের বাবুর বক্তব্য

বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সময় টিভির সিইও জুবায়ের বাবু বলেন:

“পতিত সরকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে চ্যানেলটি দখল করার পাঁয়তারা করছে। তারা পেশাদার সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এই মূহুর্তে সাধারণ সংবাদকর্মীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।”

তথ্যসূত্র- ইত্তেফাক