আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান ১ মার্চ, ২০২৬ (রোববার)
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর চালানো বর্বরোচিত হামলায় এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি। রোববার ভোরে চালানো এই হামলায় সপরিবারে শাহাদাত বরণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী। একই হামলায় তাঁর সঙ্গে থাকা ইরানের অন্তত ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শাহাদাত বরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)।
হামলায় সপরিবার শাহাদাত ও কর্মকর্তাদের মৃত্যু
ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইহুদিবাদী ও পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো খামেনেয়ীর অবস্থান নিয়ে যে ‘গোপন আস্তানা’র দাবি করে আসছিল, তা ভুল প্রমাণ করে তিনি তাঁর নিজ কর্মস্থলেই অকুতোভয় অবস্থায় শহীদ হন। এই পৈশাচিক হামলায় আরও যারা প্রাণ হারিয়েছেন:
সর্বোচ্চ নেতা: আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী।
পরিবার: তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতি। এছাড়াও শনিবার সকালে হামলায় শহীদ হওয়া তাঁর এক পুত্রবধূর মৃত্যুর খবরও পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্ব: প্রশাসনের এবং সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪০ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নেতার পাশেই শাহাদাত বরণ করেন।
মন্ত্রিসভার শোকাতুর বিবৃতি
ইরানের মন্ত্রিসভা এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানিয়েছে, “দুঃখ ও পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, মার্কিন অপরাধী সরকার এবং কুখ্যাত ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় আমাদের পথপ্রদর্শক ইমাম খামেনেয়ী শহীদ হয়েছেন। তিনি ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম উম্মাহর ঝান্ডা হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শাহাদাতের মাধ্যমেই তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের এক নতুন অধ্যায় চিহ্নিত করলেন।”
৪০ দিনের জাতীয় শোক ও ৭ দিনের ছুটি
এই মহাপ্রয়াণে পুরো ইরান এখন স্তব্ধ। তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সাধারণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রীয়ভাবে ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা
একযোগে সর্বোচ্চ নেতা ও ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার শাহাদাত ইরানের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোতে বড় ধাক্কা দিলেও, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) থেকে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: পার্স টুডে







