ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শেখ হাসিনা ‘নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে’ ভারতে এসেছেন এবং তিনি কতদিন ভারতে থাকবেন—সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে তার নিজের।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই সময়ে ব্যাপক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
‘নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে’ আগমন:
এনডিটিভির সিইও ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়াল প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনাকে কি ‘যতদিন তিনি চান’ ততদিন ভারতে থাকার স্বাগত জানানো হবে?
জবাবে এস জয়শঙ্কর বলেন:
“দেখুন, এটি একটি ভিন্ন বিষয়, তাই না? তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন এবং আমি মনে করি, তার ভাগ্যে কী ঘটবে, সে ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতিই স্পষ্টভাবে একটি বড় বিষয়। তবে আবারও বলছি, এটা এমন একটা বিষয় যেখানে তাকে মনস্থির করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
জয়শঙ্করের ভাষ্যমতে, যে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে হাসিনা ভারত এসেছেন, সেই পরিস্থিতিই এখন তার দেশে ফেরা বা এখানে থাকার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর জোর:
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং ভবিষ্যতের করণীয় প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন:
“আমরা যা শুনেছি তা হলো—বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তাদের আগে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে তা নিয়ে আপত্তি ছিল। এখন যদি নির্বাচনই মূল সমস্যা হয়ে থাকে, তবে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে জয়শঙ্কর কার্যত বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এখনো অপেক্ষাধীন।
সূত্রঃ ইত্তেফাক







