আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে ‘টার্গেট কিলিং’ বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ প্রার্থীদের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ নেতাদের জন্য ‘ভিআইপি’ সুরক্ষা
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রায় ২০ জন হেভিওয়েট প্রার্থীকে বিশেষ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন:
- বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
- জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান
- এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
- জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম
- স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই নেতাদের বাসভবন, চলাচলের পথ এবং জনসভাস্থলে সার্বক্ষণিক পুলিশি প্রটোকল ও বিশেষ গানম্যান মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায় থেকেও পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঝুঁকি বুঝে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
প্রযুক্তির ব্যবহার: ২৪ ঘণ্টা লাইভ মনিটরিং
নির্বাচনী নিরাপত্তায় এবার বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’। সাধারণত ভোটের দিন এগুলো পুরোদমে চালুর কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এখনই প্রায় ২৫ হাজার ক্যামেরা সচল করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং ডিএমপি কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলা শহরগুলোর সিসিটিভি নেটওয়ার্কও গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও ‘লাইনম্যান’ গ্রেপ্তার
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের ওপর হামলার পর অপরাধীরা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। অবৈধ পারাপারে সহায়তাকারী ৭৮৭ জন লাইনম্যানের তালিকা তৈরি করে অভিযান শুরু হয়েছে। ২৭টি সীমান্ত জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে যাতে কোনো অপরাধী দেশত্যাগ করতে না পারে।
পড়ুন- রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কারামুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি
যৌথ বাহিনীর অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধার
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু অংশ আত্মগোপনে থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া কোনো রাজনৈতিক পক্ষ ফায়দা লুটতে ‘টার্গেট কিলিং’ ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে:
- যৌথ বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
- পেশাদার খুনি ও শুটারদের তালিকা ধরে গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে।
- সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্ট ও মোবাইল প্যাট্রোল বাড়ানো হয়েছে।
আইজিপি বাহারুল আলম জানান: “নির্বাচন নিয়ে আমরা শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। কোনো ধরনের নাশকতা করে ভোট ঠেকানো যাবে না। প্রার্থীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করেছি।”
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: কালবেলা










