Home আমার ঢাকা জানুয়ারিতে ভাড়া বৃদ্ধি নয়: বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডিএনসিসির ১৬ দফার নতুন নির্দেশিকা

জানুয়ারিতে ভাড়া বৃদ্ধি নয়: বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডিএনসিসির ১৬ দফার নতুন নির্দেশিকা

184
0
ডিএনসিসি বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয়ের অধিকার রক্ষায় নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গুলশান-২ এর নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এই নতুন নিয়মাবলীর ঘোষণা দেন।

প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “সাধারণত জানুয়ারি মাস এলেই বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। কিন্তু এখন থেকে ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে অর্থবছর অনুযায়ী অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে। সিটি করপোরেশনকে যে হারে ট্যাক্স দেওয়া হয়, বাসা ভাড়ার হারও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।”

নতুন নির্দেশিকার ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট একনজরে:

১. বসবাসযোগ্যতা: বাড়ির মালিককে অবশ্যই বাড়িটি বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে।

২. ইউটিলিটি সুবিধা: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ এবং বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে মালিক দ্রুত সমাধান করবেন।

৩. সবুজায়ন: ছাদ, বারান্দা বা সামনের খালি জায়গায় মালিক ও ভাড়াটিয়া মিলে বাগান বা সবুজায়ন করতে পারবেন।

৪. নিরাপত্তা ও ছাদের চাবি: অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ছাদ ও মূল গেটের চাবি শতভাগ ভাড়াটিয়াকে দিতে হবে।

৫. ভাড়া ও রশিদ: প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে এবং মালিককে অবশ্যই স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ প্রদান করতে হবে।

৬. প্রবেশাধিকার: ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময় বাড়িতে প্রবেশের অধিকার থাকবে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে মালিক কোনো পদক্ষেপ নিলে তা আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।

৭. ভাড়া বৃদ্ধির সময়: মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ২ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন-জুলাই।

৮. ভাড়া বৃদ্ধির সীমা: ২ বছরের আগে কোনোভাবেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। ২ বছর পর আলোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তন করা যাবে।

৯. উচ্ছেদ প্রক্রিয়া: ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে প্রথমে মৌখিক সতর্কবার্তা এবং পরবর্তীতে ২ মাসের সময় দিয়ে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল করা যাবে।

১০. চুক্তি বাতিল: আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ চাইলে ২ মাসের নোটিশে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।

১১. ভাড়ার হার: এলাকাভেদে ভাড়ার বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না।

১২. লিখিত চুক্তি: ভাড়া, অগ্রিম এবং শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে লিখিত চুক্তি করতে হবে।

১৩. অগ্রিম ভাড়ার সীমা: বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১ থেকে ৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।

১৪. সমিতি গঠন: ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠন করতে হবে।

১৫. বিরোধ নিষ্পত্তি: যেকোনো সমস্যা প্রথমে সমিতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার (ডিএনসিসি) সাহায্য নিতে হবে।

১৬. সচেতনতা: এই নির্দেশিকা মানতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে জোনভিত্তিক মতবিনিময় সভা করবে সিটি করপোরেশন।