Home বাংলাদেশ চিরনিদ্রায় দেশনেত্রী: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশেই দাফন সম্পন্ন

চিরনিদ্রায় দেশনেত্রী: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশেই দাফন সম্পন্ন

153
0
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শেষ শ্রদ্ধা

সমাধিস্থলে মরদেহ নিয়ে আসার পর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা মরহুম নেত্রীর কফিন কাঁধে তুলে নেন। দাফন শেষে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর আগে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বৃহত্তম জানাজা ও জনসমুদ্র

বিএনপি চেয়ারপারসনের জানাজা উপলক্ষে এদিন ঢাকা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শুধু মানিক মিয়া এভিনিউ নয়, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও শাহবাগসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এটি ইতিহাসে কোনো মুসলিম নারীর সর্ববৃহৎ জানাজা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টামণ্ডলী।

বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও শোকবার্তা

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসেন।

  • ভারত: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সাথে দেখা করেন এবং ভারত সরকারের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন।
  • পাকিস্তান: পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

স্মৃতিময় শেষ সময়: হাসপাতালই যখন ‘বাসস্থান’

দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভোগা এই নেত্রীর জীবনের শেষ সময়টা কেটেছে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায়। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্তি পান।

উন্নত চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে ফেরার পর বারবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন, যা তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে যেন স্থায়ী ঠিকানায় পরিণত হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ও শোকের পরিবেশ

জানাজা ও দাফন কার্যক্রম ঘিরে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ২৭ প্লাটুন বিজিবি সদস্যসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের কড়া প্রহরা ছিল পুরো এলাকায়।

মরহুমের মৃত্যুতে সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি পালিত হয়েছে।

জানাজা শুরুর আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তারেক রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তায়ালা যাতে ওনাকে বেহেশত দান করেন।”