ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় জামিন নিতে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
এর আগে আদালতে প্রবেশের সময় সমকালের এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেন এই চিত্রনায়িকা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকদের বিবরণ
পরীমনির দেহরক্ষীদের বেপরোয়া আচরণে আহত সাংবাদিকরা হলেন-জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র।
হামলায় আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরবর্তীতে তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন জানান, “আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে পরীমণি তেড়ে আসেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি আমার হাতে খামচি দেন।”

যেভাবে শুরু হয় হট্টগোল
সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হন পরীমণি। আদালতের কার্যক্রম শুরুর আগে দীর্ঘ সময় তিনি নিজের গাড়িতে বসেছিলেন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখেন।
এরপর আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় উৎসুক জনতা ও সংবাদকর্মীরা ভিড় জোন। লিফটে ওঠার সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

ঠিক এই মুহূর্তে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তার ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন পরীমণি। পরে অবশ্য সহকর্মীদের সহায়তায় তার হাত থেকে ফোনটি ফিরিয়ে নেন রাজু।
জামিন মঞ্জুর ও বের হওয়ার সময় তাণ্ডব
পরে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে হাজির হন পরীমণি। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন আবেদন করলে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরীমণিকে ঘিরে রাখা দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন।
তাদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্রের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে দেখা যায়। নিচে নেমে গাড়িতে ওঠার আগেও সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যান পরীমণি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল কাউছার প্রশ্ন তোলেন, আদালতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন আসামি কীভাবে ১০-১২ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে মহড়া দিতে পারেন এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের গায়ে হাত তুলতে পারেন? তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর পরীমণি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তার গায়ে পড়ার চেষ্টার অভিযোগ তুললেও উপস্থিত সাংবাদিকরা তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং পরীমণির এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মহলে তাকে বয়কটের দাবিও উঠেছে। সাথে এই ঘটনার কঠিন বিচার দাবি করছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। পিবিআই কর্তৃক মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০২৩ সালে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
সেই মামলায় হাজিরা দিতে এসেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।














