ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধের দাবি
ছবি: সমকাল
banner

ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও ভারতীয় সীমান্তে বা ভ্রমণের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম’।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ।

‘নিজেদের দেশের পরিস্থিতির দিকে তাকানো উচিত’

সমাবেশে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত নির্যাতনের অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

সাম্প্রতিককালে কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে- এমন মনগড়া অভিযোগ তুলে যারা কলকাতায় প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছেন, তাদের আগে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকানো উচিত।”

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, মধ্যপ্রদেশে শত শত বছরের পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আজান দেওয়া ও মুসলমানদের কোরবানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এসব ইস্যুতে ভারতীয় মানবাধিকারকর্মীদের নীরবতার সমালোচনা করেন তিনি।

পূজা উদযাপন পরিষদ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মনগড়া অভিযোগ প্রসঙ্গে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্দিষ্ট অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করলে সেটিকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, “এটি সাধারণ সংখ্যালঘুদের কোনো প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন নয়, বরং এটি আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী সংগঠন।

তারা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে।” এ সময় তিনি পূজা পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

বাংলাদেশিদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করা ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি উঠে এসেছে।

সংগঠনিক সম্পাদক সনজিত কুমার দে অভিযোগ করেন, ভিসা পেয়ে ভারতে ভ্রমণের সময় সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকরা বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশাসনিক ও শারীরিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা অসাম্প্রদায়িক ও প্রতিবেশীতুলভ আচরণের পরিপন্থী।

তিনি এই হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মাসুদ রানাসহ সংগঠনের সহসভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী, মো. আল আমিন, মো. আক্তার, মো. ইমরান হোসেন, আল-আমিন (সুমন), জ্যাকসন গোমেজ ও মো. জহিরুল ইসলাম জাহিদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল