৩২ বছর আগে একই শ্রেণিকক্ষে এক বেঞ্চে বসেছিলেন তাঁরা। সময়ের তাগিদে এরপর কেটে গেছে তিন যুগেরও বেশি সময়।
জীবনের প্রয়োজনে কেউ দেশে, আবার কেউ বিদেশে পাড়ি জমালেও অমলিন থেকে গেছে শৈশব-কৈশোরের বন্ধুত্ব। আর সেই পুরনো বন্ধুত্বই এবার এক বন্ধুর মাথার ওপর হয়ে উঠল নিরাপদ পাকা ছাদ।
সিলেটের গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর দক্ষিণভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আহমেদ। তিনি ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ১৯৯৪ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী।
বাঁশের খুঁটি ও বেড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর পুরোনো টিনের ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও স্বভাবসুলভ লজ্জায় এই অভাবের কথা ৩২ বছরের পুরনো কোনো বন্ধুকে জানতে দেননি আব্বাস।
যেভাবে শুরু হলো বন্ধুত্বের নতুন উদ্যোগ
কয়েক মাস আগে সহপাঠীরা জানতে পারেন আব্বাসের জরাজীর্ণ ঘরের কথা। ঘরের বর্তমান অবস্থার একটি ভিডিও ক্লিপ দেশে-বিদেশে থাকা বন্ধুদের মেসেঞ্জার গ্রুপ ও নেটওয়ার্কে পাঠানো হলে শুরু হয় জোর আলোচনা।
জরাজীর্ণ ঘরটি ভেঙে সেখানেই নতুন একটি দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সবাই।
এরপর প্রবাসে ও দেশে থাকা এসএসসি ৯৪ ব্যাচের বন্ধুদের আর্থিক সহযোগিতায় শুরু হয় নির্মাণকাজ।
প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচে নির্মিত হয় নতুন পাকা বাড়িটি। সম্প্রতি ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি আব্বাস ও তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেন সহপাঠীরা।
‘ঋণের বন্ধনে আবদ্ধ করলেন বন্ধুরা’
অনুষ্ঠানে সহপাঠী শামীম আহমদ বলেন, “আব্বাস কখনোই নিজের কষ্টের কথা কাউকে প্রকাশ করেনি। কিন্তু যখনই আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি, সব বন্ধুরা মিলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করেছি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, “এটি স্রেফ একটি ঘর বানিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; দীর্ঘ তিন যুগের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত।”
নতুন ঘরের চাবি পেয়ে আবেগাপ্লুত আব্বাস আহমেদ বলেন, “বন্ধুরা আমাকে ভালোবাসা ও অনুভূতির এমন এক ঋণের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন, যে ঋণ কোনো দিন শোধ করার মতো নয়।”
সূত্র: Club94














