অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড কুবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কুবি শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অপ্রতিমের জানাজা শেষে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্বরোডের দিকে যাত্রা করেন শিক্ষার্থীরা, পরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা চান।

“পুলিশের ব্যর্থতা” বলছেন শিক্ষার্থীরা

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, এই সমস্যা শুধু অপ্রতিমের একার নয়, বরং সারা বাংলাদেশের চিত্র। তার ভাষায়, কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে, তারপরও পুলিশ সুপার পুরস্কার পান। তিনি অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূঁইয়া এই ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, পুলিশ কেবল ক্লু পাওয়ার কথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কী পাওয়া গেছে তা জানানো হচ্ছে না। প্রশাসন এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

আটক তুহিনের বিরুদ্ধে উঠলো পুরনো অভিযোগ

এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মোটরসাইকেল আত্মসাতের পুরনো অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের এক যুবকের দাবি,

এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় আগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ নিয়মিত মামলা না নিয়ে বিষয়টি শুধু জিডিতে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। তার অভিযোগ, আগের অপরাধে শাস্তি না হওয়াতেই তুহিন পরবর্তীতে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছে।

শনিবার তুহিনের আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বের অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রকাশ করেন সোহাগ। তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে তুহিন তার মোটরসাইকেলটি সাময়িক ব্যবহারের কথা বলে নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেননি।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রভাবশালী মহলের চাপের কথা উল্লেখ করে মামলা না নিয়ে শুধু একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে বলে অভিযোগ তার।

আরো পড়ুন- চাঁদা না দেয়ায় সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

পুলিশ যা বলছে

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি অতীতের এই অভিযোগও গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হবে।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সাথে তুহিনকে দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশ, পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খোয়া যাওয়া একটি আইফোন উদ্ধার করা হয় এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুই কিশোরকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।