গাইবান্ধার সাঘাটায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির।
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় যুবদল নেতা ও তাঁর ভাইকে দায়ী করে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এদিকে, সংসদের বৈঠক শেষে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ।
লোহার শাবল ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে নৃশংস হামলা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২১ জুন ২০২৬) বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়নে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় যুবদল নেতা মোখলেসুর রহমান মুকুল, তাঁর ভাই পলাশসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহ বারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “যুবদল নেতা মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ একদল সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহ বারীকে ধারাল অস্ত্র ও লোহার শাবল দিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চরম বর্বর, কাপুরুষোচিত ও মানবতাবিরোধী। কোনো সভ্য সমাজ ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।” হামলায় সাইফুল্লাহর বন্ধু সালাউদ্দিনও গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
“খুনের রাজনীতি না ছাড়লে বিএনপিকেও দেশছাড়া করা হবে” — শিবির সভাপতি
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার রাতেই রাজধানী ঢাকায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে বলেন:
“বিগত ২০ বছর ধরে রাজপথে আমরা একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও, আজ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে বিএনপি খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। এই দখলদারিত্ব ও খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে দেশের সাধারণ জনগণ আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপিকেও দেশছাড়া করবে। বর্তমান বিএনপির কর্মকাণ্ডের সাথে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে ছাত্রসমাজ রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। যারা ক্ষমতার মোহে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তারা এখনই সতর্ক না হলে আগামী ৫ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
সমাবেশে শিবিরের দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনার গুম-খুনের রাজনীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপি আজ বিভিন্ন স্থানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
এমপি আব্দুল ওয়ারেছের বিচার দাবি
সংসদ অধিবেশন শেষে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ সাংবাদিকদের জানান, যুবদল এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হামলায় শিবিরের এই কর্মী নিহত হয়েছেন।
তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রকৃত খুনিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান। বোনারপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।










