মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তাকে পাত্তাই দিল না ইসরাইল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্ত ভেঙে নতুন করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) বিবিসির এক অনলাইন প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বুধবার ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী কাফার তিবনিতের উপকণ্ঠে এই অতর্কিত হামলা চালায়।

শান্তি চুক্তি ভাঙার পথে নেতানিয়াহু!
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, গত রোববার রাতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল, চুক্তির শর্তাবলীর মধ্যে লেবাননের নিরাপত্তা ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ডে কোনো ইসরাইলি সেনা অবস্থান করতে পারবে না। তবে সোমবারই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দম্ভোক্তি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যতদিন প্রয়োজন মনে হবে, ততদিন লেবাননে ইসরাইলি সেনা অবস্থান করবে।” নেতানিয়াহুর এই অনমনীয় অবস্থানের পর বুধবারের এই বিমান হামলা শান্তি চুক্তিকে সরাসরি ভেস্তে দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
আরো পড়ুন- ইরানের কঠোর শর্ত
‘আমি ছাড়া ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকবে না’ – জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রাম্প সম্মেলনস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্ক থাকলেও লেবাননে চালানো সাম্প্রতিক হামলা তিনি মোটেও পছন্দ করেননি। দীর্ঘদিনের এই লড়াইয়ে বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প কড়া ভাষায় দাবি করেন:
“যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বিশ্ব মানচিত্রে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। আর আমি ছাড়া কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য এতকিছু করেনি।”
ইরানের পাল্টা যুদ্ধের হুমকি
লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর তেহরানের পক্ষ থেকে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “লেবাননে যেকোনো ধরনের নতুন হামলা কিংবা দেশটির সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থানকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।” এর ফলে ইরানও পাল্টা সামরিক অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হবে।
যদিও বুধবারের এই নির্দিষ্ট বিমান হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তেল আবিব। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এর আগে দাবি করেছিল, তারা ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালাচ্ছে। এই হামলার পর বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে নতুন করে রকেট হামলার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।









