ক্রিকেটার নাঈম হাসান

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানের সঙ্গে চরম ‘অপেশাদার’ ও হিংস্র আচরণের অভিযোগে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে সিএমপির সহকারী কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন-খুলশী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এই ঘটনায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

সিএনজি থেকে নামিয়েই গলা চেপে ধরে পুলিশ!

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের সেই গা শিউরে ওঠা ঘটনার বর্ণনা দেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত নাঈম বলেন:

“কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে পুলিশ অবশ্যই আমাকে থামিয়ে তল্লাশি করতে পারত, সেই অধিকার তাদের আছে। কিন্তু তারা তা করেনি। আমি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামার পর আবার উঠতে গেলে একজন পুলিশ সদস্য ভেতরে ঢুকে সরাসরি আমার গলা চেপে ধরে। আমি মারাত্মক ভয় পেয়ে যাই। তারা আমার ব্যাগ বা কোনো কিছুই চেক না করে অপরাধীর মতো টেনে-হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়।”

থানায় ওসির রুক্ষ আচরণ: ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল’

নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর নিজের ক্রিকেটার পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশের কাছ থেকে ন্যূনতম সম্মানজনক আচরণ পাননি। উল্টো খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান অত্যন্ত উগ্র মেজাজে ধমক দিয়ে নাঈমকে বলেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল।’

নাঈম জানান, “ওসি এমন ধমক দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই উনার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে ওপর মহলের সঙ্গে কথা বলার পর ওসির সুর পুরোপুরি বদলে যায়! ফোন রেখেই তিনি আমাকে বলেন, ‘ভাইয়া, আপনি বসেন।’” ততক্ষণে নাঈমের বাবা, স্বজন ও শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা থানা ঘেরাও করলে টনক নড়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

‘জনতা এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো’

ভয়াবহ সেই রাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নাঈম বলেন, “ঘটনাস্থলে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিল। রাতের ওই সময়ে আশপাশের মানুষ ওভাবে এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। আমি যখন তাদের (জনতাকে) সঙ্গে আসতে বলি, তারা আমার সাথে থানা পর্যন্ত যায়। সাধারণ মানুষ পাশে ছিল বলেই পুলিশ অন্য কিছু করার সুযোগ পায়নি। আমি ওই জনতার প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।”

ঘটনার পর থেকে সারারাত ঘুমাতে পারেননি জানিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জড়িত পুলিশ সদস্যদের আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষকে এমন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

বাসায় সিএমপি কমিশনার, সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের ক্ষোভ

এদিকে ঘটনার তীব্রতা ও জনরোষের মুখে শনিবার বেলা ১২টার দিকে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ফরিদাপাড়ার বাসায় ছুটে যান সিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা নাঈম ও তাঁর পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, জাতীয় দলের একজন তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যাক্কারজনক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। উল্লেখ্য, দেশের হয়ে ১৪টি টেস্ট খেলে ৪৮টি উইকেট নেওয়া এই অফস্পিনারের এক ইনিংসে ৪ বার ৫ উইকেট নেওয়ার গৌরবময় রেকর্ড রয়েছে।