বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার হলো ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। প্রতি চার বছর পর পর আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সোনালী স্বপ্নের পেছনে ছোটে গোটা পৃথিবী।
কিন্তু এই ট্রফির পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও রহস্যময় ইতিহাস, যা ফুটবলের জগতে অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।
আজ আমরা বিস্তারিতভাবে জানব ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ইতিহাস, এর ডিজাইন, তৈরি প্রক্রিয়া, এবং অজানা সব তথ্যের কথা।
ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফি: জুল রিমে শিরোপা
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে আয়োজিত হয় ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম আসর, যেখানে ১৩টি দেশ অংশ নেয়। সেই সময় বিজয়ীদের দেওয়া হতো একটি ট্রফি যার নাম ছিল “ভিক্তোয়ার” (Victory)।
পরে যেটি পরিচিত হয় জুল রিমে নামে—ফিফার ইতিহাসের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট জুলে রিমের নামে।

জুল রিমে ১৯২৯ সালে প্রথম কোনো আন্তঃদেশীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পক্ষে ভোট প্রদান করেছিলেন।
তার এক বছর পরেই তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে হাতে ট্রফি তুলে দিতে সমর্থ হন।
এই ট্রফির নকশা করেন ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্ল্যা।
জুল রিমে ট্রফিটি ছিল ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এবং ১.৮ কেজি ওজনের, যা ১৮ ক্যারেট সোনায় তৈরি ছিল।
ট্রফির উপরে বিজয়ী নারীর ছবি ছিল, যার হাতে ছিল ক্যাপ স্টার সহ একটি কপ।
প্রথম ট্রফি ছিল গ্রীক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’-র একটি ভাস্কর্য। মাথার উপরে অষ্টভুজাকৃতির কাপ ধরে থাকতে দেখা যেত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ট্রফির রহস্যময় অধ্যায়
১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি।
কিন্তু এই সময় ট্রফির ইতিহাসে এক রহস্যময় অধ্যায় যোগ হয়।
অনেকের ধারণা ট্রফিটি নাৎসিদের হাত থেকে রক্ষা করতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটি কোথায় রাখা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে জানা যায় যে, ট্রফিটি ফ্রান্সে নিরাপদে রাখা হয়েছিল এবং নাৎসিদের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল।
এই অজানা ইতিহাস ফুটবলের জগতে একটি অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।
ট্রফির চুরির ঘটনা: ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় অধ্যায়
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ইতিহাসে তিনবার চুরি হয়। এই তথ্য খুবই অজানা এবং রহস্যময়।
প্রথম চুরি হয় ১৯৬০-এর দশকে ইতালিতে, দ্বিতীয় চুরি হয় ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে, এবং তৃতীয় চুরি হয় ১৯৮০-এর দশকে আর্জেন্টিনায়।
১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে ট্রফি চুরি হলে সিকিউরিটি পুলিশ ট্রফিটি খুঁজতে শুরু করে।
একটি ছোট কুকুরের সাহায্যে ট্রফিটি পাওয়া যায়, যা একটি পোস্টকার্ডবক্সে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবাক করার চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ট্রফির পরিবর্তনের সময় :১৯৭০:
১৯৭০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতায় তাদের তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার পর, ব্রাজিল জুল রিমে ট্রফিটি স্থায়ী করে ফেলে। ফিফা সূত্রে নিয়ম ছিল যে, যে দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতবে সে ট্রফিটি নিজেদের দেশে রাখতে পারবে।
১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার পর চিরতরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ফিফা ১৯৭০ সালের পর নতুন ট্রফি তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ৭টি দেশের শিল্পীদের মধ্যে থেকে ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগার ডিজাইন করা ট্রফি নির্বাচন করা হয় এবং এটি তৈরি করেন জিডিএ বার্তনি। ১৯৭৪ বিশ্বকাপের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ট্রফি তৈরির প্রয়োজন পড়ে।
বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি: সিলভিও গাজ্জানিগার ডিজাইন
১৯৭১ সালে সিলভিও গাজ্জানিকা নতুন এই ট্রফিটি তৈরি করেন। তৈরি করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এই ট্রফির নকশা করেছেন ইতালিয়ান ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিকা।
ট্রফির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তথ্য:
নতুন ট্রফিতে দুই ব্যক্তি পৃথিবীকে ধরে রাখার ছবি রয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য ও গ্লোবাল স্পিরিটের প্রতীক। এতে একটি ম্যালাকাইট ভিত্তি রয়েছে। এই ডিজাইনটি বিশ্ব ফুটবলের গ্লোবাল স্পিরিট এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।

ট্রফির আর্থিক মূল্য: কোটি কোটি টাকার স্বপ্ন
এই ট্রফির মহিমা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর আর্থিক মূল্যও বেড়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে फিफা বিশ্বকাপ ট্রফির দাম প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩৫ কোটি টাকার বেশি।
শুধু স্বর্ণ ও উপকরণের মূল্যই আড়াই লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন কোটি সাত লাখ টাকা। ১৯৭১ সালে ট্রফি তৈরি খরচ ছিল ৫০ হাজার ডলার, যা আজকের দিনে হাজার কোটি টাকার সমতুল্য।
তবে এর ঐতিহ্য ও ইতিহাসের মূল্য আর্থিক মূল্য থেকে অনেক বেশি। বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি ফুটবল ইতিহাস ও গৌরবের প্রতিচ্ছবি, যার মূল্য কেবল আর্থিক নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অনন্য একটি মর্যাদার প্রতীক।
ট্রফির নিরাপত্তা ও নিয়মকানুন: আসল ট্রফি কোথায় থাকে?
অনেকেই মনে করেন চ্যাম্পিয়ন দল আসল ট্রফিটি নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। আসলে তা নয়! ২০০৬ সালের পর থেকে নিয়ম করা হয়েছে যে, আসল ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা মিউজিয়ামে (FIFA World Football Museum) থাকবে।
বিজয়ীদের কেবল একটি সোনা প্রলেপ দেওয়া ব্রোঞ্জ রেপ্লিকা (Gold-plated Replica) দেওয়া হয়। কেবল ফিফা প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বকাপ বিজয়ীরাই আসল ট্রফিটি স্পর্শ করার অনুমতি পান।
বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি ফুটবল ইতিহাস ও গৌরবের প্রতিচ্ছবি। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার পর চিরতরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জুল রিমে ট্রফি। ১৯৭৪ বিশ্বকাপ থেকে সম্পূর্ণ নতুন ট্রফি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্বকাপ বিজয়ী দেশগুলো এবং ট্রফি
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি প্রথম পুরস্কৃত হয় ১৯৩০ সালে (জুল রিমে শিরোপা) এবং বর্তমান ট্রফি ১৯৭৪ সালে প্রথম ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ট্রফি আর্জেন্টিনা হাতে রাখছে।
বিশ্বকাপের প্রথম আসর হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে, যেখানে উরুগুয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়।
বর্তমান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশ সংখ্যা ৩২। ২০২৬ সালে চার মাস পর মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে আগামী আসর।
ব্রাজিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দেশ, যারা ৫ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২)। ইতালিও ৪ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২, ২০০৬)।
জার্মানিও ৪ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০, ২০১৪)। আর্জেন্টিনা ৩ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২)। ফ্রান্স ২ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৯৮, ২০১৮)। উরুগুয়ে ২ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৩০, ১৯৫০)।
ট্রফির ডিজাইনের চমকপ্রদ তথ্য
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির রহস্যময় ইতিহাস ফুটবলের জগতে একটি অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, যা প্রতিবার বিশ্বকাপ আসলে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ও গর্বের নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি (FIFA World Cup Trophy) ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় পুরস্কার।
ট্রফির ডিজাইনে দুই ব্যক্তি পৃথিবী ধরে রাখার ছবি রয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য ও গ্লোবাল স্পিরিটের প্রতীক। এই ডিজাইনটি বিশ্ব ফুটবলের গ্লোবাল স্পিরিট এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়। ট্রফির উপরে দুইজন মানুষ পৃথিবী ধরে রাখছে, যা ফুটবলের গ্লোবাল প্রভাব ও ঐক্যের প্রতীক।
ফিফার ট্রফিটির ভিত্তি ম্যালাকাইট (সবুজ রঙের খনিজ পাথর), যা একটি মূল্যবান মাটির পাথর। এই ম্যালাকাইট ভিত্তি ট্রফির গৌরব ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়। ট্রফির সোনালী রঙ ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি, যা এর দাম ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ট্রফির বিখ্যাত ঘটনা: ইতিহাসের সবচেয়ে অবাক করার মাস
ট্রফির ইতিহাসে কিছু বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে যা ফুটবল ইতিহাসের অমূল্য অংশ। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে ট্রফি চুরি হলে সিকিউরিটি পুলিশ ট্রফিটি খুঁজতে শুরু করে। একটি ছোট কুকুরের সাহায্যে ট্রফিটি পাওয়া যায়, যা একটি পোস্টকার্ডবক্সে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এই ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবাক করার চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতায়, মাডোনা ট্রফিটি হাতে নিয়ে প্যারিসের ইইফেল টাওয়ারে যায় এবং সেখানে একটি ফটোশুট করে। এই ফটো বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত হয় এবং ট্রফির ইতিহাসে একটি অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে যায়।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতায়, লিওনেল মেসি ট্রফিটি হাতে নিয়ে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনোস আয়ার্সের ম্যাসিভ র্যালাই করে। এই র্যালাইতে ৪ মিলিয়ন মানুষ অংশ নেয় এবং ট্রফির ইতিহাসে একটি অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে যায়।
আর্জেন্টিনা: বর্তমান বিশ্বকাপ বিজয়ী
বর্তমানে ট্রফি আর্জেন্টিনা হাতে রাখছে। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে ৩-৩ (৪-২ পেনাল্টি) জেতায় তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে। লিওনেল মেসি তার শেষ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর্জেন্টিনা ট্রফিটি তাদের দেশে নিয়ে যায়।
আর্জেন্টিনা ৩ বার বিশ্বকাপ জিতেছে (১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২)। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা মিউজিয়ামে পাঠানো হয়।
ট্রফির নিয়ম: কতবার বিশ্বকাপ জিততে হবে ট্রফি নি রাখতে?
ফিফা সূত্রে নিয়ম ছিল যে, যে দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতবে সে ট্রফিটি নিজেদের দেশে রাখতে পারবে। ব্রাজিল ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার পর চিরতরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জুল রিমে ট্রফি।
১৯৭০ সালের পর ফিফা এই নিয়ম পরিবর্তন করে। এখন যে দেশ বিশ্বকাপ জিতবে সে কেবল একটি রেপ্লিকা ট্রফি পাবে, আসল ট্রফিটি ফিফা মিউজিয়ামে থাকবে। এই পরিবর্তন ২০০৬ সালে করা হয়।

ট্রফির উপাদান: ৫৩০ ভরি স্বর্ণের প্রতীক
কী দিয়ে তৈরি এই ট্রফি? বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরি হয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান উপাদান দিয়ে:
- ১৮ ক্যারেট খাঁটি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি
- ওজন প্রায় ৬.১ কেজি (প্রায় ১৩.৫ পাউন্ড)
- বাংলাদেশি পরিমাপে এটি আনুমানিক ৫৩০ ভরি স্বর্ণ
- মোট স্বর্ণ: ৬,১৭৫ গ্রাম
- ভিত্তি: ম্যালাকাইট গ্রিন (১৩ সেন্টিমিটার উচ্চতা)
এই স্বর্ণের মূল্যই আজ আড়াই লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন কোটি সাত লাখ টাকা।
উপসংহার: ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া এই ট্রফির ইতিহাসে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রহস্য, ট্রফির পরিবর্তনের অধ্যায়, তিনবার চুরির ঘটনা, এবং বর্তমান নিরাপত্তা নিয়মকানুন।
সিলভিও গাজ্জানিগার ডিজাইন করা বর্তমান ট্রফি ১৮ ক্যারেট সোনায় তৈরি, ৩৬.৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার, ৬.১৭ কেজি ওজনের, এবং বাজারমূল্যে ২০ মিলিয়ন ডলার (২৩৫ কোটি টাকার বেশি)।
কিন্তু এর আর্থিক মূল্যের চেয়ে এর ঐতিহ্য ও গৌরবের মূল্য অনেক বেশি।
প্রতি চার বছর পর পর এই ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সোনালী স্বপ্নের পেছনে ছোটে গোটা পৃথিবী, এবং এই ট্রফি বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ও গর্বের নতুন অধ্যায় খুলে দেয়।
২০২৬ সালের আজ থেকে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, যেখানে নতুন এক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে নেবে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ইতিহাস ফুটবলের জগতে একটি অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, যা কখনোই হারাবে না গৌরব। এই ট্রফি বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য, গ্লোবাল স্পিরিট, এবং গৌরবের প্রতীক হিসেবে রয়ে যাবে কালজয়ী।








