ভারতের মুম্বাইয়ে বিরিয়ানি আর তরমুজ খাওয়ার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, মারাত্মক ‘ফুড পয়জনিং’ বা খাদ্য বিষক্রিয়াই এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ।
নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আব্দুল কাদার (৪০), তার স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং তাদের দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩)।
ঘটনার বিবরণ
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বিরিয়ানি ভোজের পর রাত ১টার দিকে তারা সবাই তরমুজ খান। ভোরের দিকে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি ও ডায়রিয়া। জেজে হাসপাতালে নেওয়ার পর রবিবার সকাল থেকে রাতের মধ্যে একে একে পরিবারের চারজনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ডিহাইড্রেশনের কারণে তাদের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
বিজ্ঞান ও মেডিকেল বিশ্লেষণ: কেন এমনটি হতে পারে?
মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার নেপথ্যে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ খতিয়ে দেখছেন:
১. তরমুজে নাইট্রেটের বিষক্রিয়া (Nitrate Toxicity): অসময়ে ফল পাকানোর জন্য বা উজ্জ্বল লাল রঙ করার জন্য অনেক সময় তরমুজে বিষাক্ত ‘কার্বাইড’ বা অতিরিক্ত ‘নাইট্রেট’ সার ব্যবহার করা হয়। নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবার শরীরে প্রবেশের পর তা রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দেয় (Methemoglobinemia), যা দ্রুত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
২. সালমোনেলা বা স্ট্যাফাইলোকক্কাস সংক্রমণ: বিরিয়ানি যদি দীর্ঘক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রায় রাখা হয়, তবে তাতে ‘Bacillus cereus’ বা ‘Salmonella’ নামক ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হতে পারে। বিরিয়ানির মাংস এবং পরে খাওয়া তরমুজের জলীয় অংশ এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বিস্তারে সাহায্য করে। এর ফলে ‘সেপটিক শক’ হয়ে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে।
৩. বিপরীতধর্মী খাবারের প্রভাব (Food Synergy Issues): আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার (যেমন বিরিয়ানির মাংস) এবং উচ্চ জলীয় ফল (যেমন তরমুজ) একসাথে বা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে খাওয়া পরিপাকতন্ত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তরমুজ খুব দ্রুত হজম হয়, কিন্তু মাংস হজম হতে সময় নেয়। ফলে পাকস্থলীতে খাবার পচনের মাধ্যমে গ্যাস ও টক্সিন তৈরি হতে পারে।
৪. অর্গানোফসফরাস বিষক্রিয়া: ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন, তরমুজের ওপর ছিটানো কীটনাশক কোনোভাবে ফলের ভেতরে প্রবেশ করেছিল কি না। এটি সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা
স্থানীয় চিকিৎসক ড. জিয়াদ কোরেশি জানান, তীব্র বমি ও ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে দ্রুত ইলেকট্রোলাইট (পানি ও লবণ) বের হয়ে যায়। একে বলা হয় ‘Hypovolemic Shock’। এই অবস্থায় তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নিলে হার্ট ফেইলিউর হওয়ার ঝুঁকি থাকে ১০০ শতাংশ।








