বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ | রাত ১২:৩০
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’-র শক্তিশালী ক্রেনের সাহায্যে বাসটি নদী থেকে ওপরে তুলে আনা হয়। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি।
১১ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ নিশ্চিত করেছেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুই নারীর মরদেহ গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। বাসের ভেতর এবং আশপাশের এলাকায় এখনো তল্লাশি চলছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাসের ভেতর যা দেখা গেল
রাত ১২টায় বাসটি পানির ওপরে তোলার পর দেখা যায় সেটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। বাসের ভেতর থেকে একে একে মরদেহ বের করে আনছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। নিথর দেহগুলোর পাশাপাশি স্বজনদের ফেলে যাওয়া স্কুলব্যাগ, জুতা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধারের দৃশ্য উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দিচ্ছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে যৌথ অভিযান
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৪০ জন যাত্রী পানির নিচে আটকা পড়েছিলেন। এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দলের পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। জোরালো সার্চলাইট জ্বালিয়ে নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট
বুধবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে বাসটি নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে গভীর পদ্মায় পড়ে যায়। কুষ্টিয়া থেকে আসা বাসটিতে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা সাধারণ মানুষই বেশি ছিলেন। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টার পর বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হলো।










