ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর শাহাদাত এবং কয়েকশ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর পর একযোগে গর্জে উঠেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী, জেনারেল স্টাফ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে এমন শিক্ষা দেবে যা তাদের চিরকাল “অনুশোচনায় ভোগাবে”।
আইআরজিসির হুঁশিয়ারি: “ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস আক্রমণ”
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে অধিকৃত ইসরাইলি অঞ্চল এবং মার্কিন সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলার ছক চূড়ান্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস এবং বিধ্বংসী আক্রমণ চালিয়ে শত্রুর দর্প চূর্ণ করে দেবে।”
জেনারেল স্টাফের বিবৃতি: “শত্রুকে অনুশোচনায় ভোগাব”
পার্সটুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, ইরানের সাহসী জাতি এবং বীর সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ। তারা জোর দিয়ে বলেছে, “আমাদের শক্তি, সামর্থ্য এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে আমরা অপরাধী আমেরিকা এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীকে এমন জবাব দেব যে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনায় ভুগবে।”
আরো পড়ুন- ‘কঠোর আঘাত’ এখনো করিনি, ‘মূল আক্রমণ শিগগিরই’: হুঙ্কার দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
সেনাবাহিনীর অবস্থান: “বিনা জবাবে পার পাবে না”
ইরানের সেনাবাহিনী তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, জাতির বীর সন্তানদের কর্তৃত্বপূর্ণ উপস্থিতি এই পাশবিক কর্মকাণ্ডকে বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:
“ইসলামি বিপ্লবের শহীদের পথ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইরানের সেনাবাহিনী জাতির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে আছে।”
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান
সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জন্য ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মিলিত বিবৃতিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান কেবল ছোটখাটো হামলা নয়, বরং একটি পূর্ণমাত্রার ও নজিরবিহীন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্রঃ পার্স টুডে







