Home নাগরিক দুর্ভোগ গরমে চরম লাভে আইপিএস সিন্ডিকেট

গরমে চরম লাভে আইপিএস সিন্ডিকেট

360
0
গরমে চরম লাভে আইপিএস সিন্ডিকেট

প্রচন্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে আইপিএস ও ব্যাটারী তৈরী প্রতিষ্ঠান গুলো সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বাজারে সংকট দেখিয়ে ২-৩গুণ মূল্য বৃদ্ধি করে আইপিএস এ বাজারে হাহাকার সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এসব কোম্পানী।

আইপিএস ও ব্যাটারী তৈরী প্রতিষ্ঠান গুলোর সিন্ডিকেট নিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

ইনিউজ আপ এর প্রতিবেদক সরেজমিনে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, মগবাজার সহ আইপিএস ও ব্যাটারী বিক্রীর দোকান ঘুড়ে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়।

রাজধানীর কাজীপাড়ার একজন পুরনো আইপিএস ও ব্যাটারী বিক্রেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনিউজআপ কে জানান- “ প্রচন্ড গরম ও লোডশেডিং এ যখন সারাদেশের মানুষ কষ্টে দিনপার করছে সে সময়ই কিছু আইপিএস ও ব্যাটারী প্রস্তুতকারক এবং আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট বাজারে সাপ্লাই বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পুরনো দামের চেয়ে ৩গুণ বেশী দামে আইপিএস বিক্রী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ যারা আইপিএস নিয়ে গরমে আরাপ পেতে চায় তাদের হাতের নাগালের বাহীরে এখন আইপিএস। প্রতিবছরই এসব সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে এধরনের কাজ করে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকা। সাধারণ মানুষ আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের উপর ক্ষোভ ঝাড়ছে, আসলে আমরা তো পোনা মাছ, রাঘববোয়ালদের এই সিন্ডিকেট সরকার ছাড়া কেউ ভাংতে পারবে না।”

ইনিউজ আপের প্রতিবেদক বাজারে ঘুরে বিভিন্ন দেশী বিদেশী আইপিএস এর দাম যাচাই করেছে যা নীচে দেয়া হলো। বর্তমানে ৩গুণ বেশী দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না আইপিএস।

লুমিনাস, রহিম আফরোজ, মাইক্রোটেক, স্মারটেন,এক্সাইড সহ দেশী বিদেশী সকল আইপিএস ১ মাস আগের দামের চেয়ে ৬-৭ হাজার টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে ১/২টি পুরনো মডেল যেগুলো আগে ১০হাজার টাকায় পাওয়া যেতো সেগুলো এখন ১৬-১৭ হাজার টাকায় বিক্রী হচ্ছে। যেগুলো আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তির সেগুলো মার্কেটে নেই বললেই চলে, কিছু কিছু দোকানে ২/১ টা পেলেও সেগুলো ২২-২৩হাজার টাকায় বিক্রী হচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও এগুলোর দাম ছিলো ১৪-১৫হাজার টাকা।

গরমে চরম লাভে আইপিএস সিন্ডিকেট

উত্তরার একজন বিক্রেতা জানান-” গরমে আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষ কষ্টের টাকা দিয়ে আইপিএস কিনতে এসে না পেয়ে ও চড়া দাম দেখে কষ্ট নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছে। অনেকের বাসায় ছোট বাচ্চার কষ্টের কথা চিন্তে করে চড়া দামে পুরনো মেডেল এর আইপিএস কিনে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ সবাই মনে করে আমরা দাম বাড়িয়েছি, আসলে তো আমরাও চড়া দামে কিনছি, আগে যেখানে ১০পিস কিনতাম এখন সেখানে ৫পিস কিনছি চড়া মূল্যের কারণে। দ্রুত সরকারে কাছে অনুরোধ এসব সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানে আইপিএস কিনতে আসা একজন ক্রেতা ক্ষোভ নিয়ে ইনিউজ আপকে বলেন-

” আপনারা নিউজ করবেন এটুকুই, সমাধান তো হবে না। গরমে ঘরে বয়স্ক মা-বাবার জন্য আইপএস কিনতে এসে আমি ক্ষুব্দ ও হতাশ, আমার কেনা হলো না। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, লোডশেডিং, ব্যাবসায়িক সিন্ডিকেট, পরিবহণ সিন্ডিকেট ও অসাধু চক্রের কাছে আমরা জিম্মি, কিন্তু সরকার কেন জিম্মী, সরকার কেন এসব দেখেও দেখছে না?

আমারা তো এমপি মন্ত্রীদের মতো বিদেশে বাড়ী করেনি, অমাদের তো হালাল ইনকাম, আমরাতো দেশ ছাড়তে পারবো না। তাহলে কি আমরা এই দেশে এভাবেই সব সিন্ডিকেটের চাপে মারা যাবো?”

ইনিউজ আপ প্রতিবেদক অনলাইনেও বেশ কিছু ইকমার্স ওয়েবসাইট যাচাই করে, সেখানে পূর্বের মূল্য লেখা থাকলেও অর্ডার করার পর জানা যায় স্টক নেই, আবার অনেক সময় অর্ডার করার সময় মূল্য পরিবর্তিত হয়ে৩-৪ গুণ বেশী দেখাচ্ছে।

বরাবরই বাংলাদেশে ভারতীয় আইপিএস বেশ জনপ্রিয় ও বহুল বিক্রীত। পাশাপাশি বর্তমানে দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠান ভালো আইপিএস তৈরী করলেও তারাও এই সময় অতিরিক্ত মুনাফার আশায় চড়া দামে আইপিএস ও ব্যাটারী বিক্রী করছে।

–নিজস্ব প্রতিবেদক