Home অপরাধ হিজাব নিয়ে গুজব চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

হিজাব নিয়ে গুজব চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

179
0

নওগাঁর মহাদেবপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব নিয়ে গুজব ছড়িয়ে সহিসংতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার শহরের লাইব্রেরি পট্টি ও কুশারসেন্টার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতাররা হলেন-মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা মৃত কাজী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে কিউএম সাঈদ টিটো ও কুশারসেন্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজী ময়েন উদ্দিনের ছেলে কাজী সামছুজ্জোহা মিলন।

ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, শুক্রবার দুপুরে দুজনকে নওগাঁ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল বাদী হয়ে থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণ, বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন ও জেলার পোরশা উপজেলার গহেরপুর গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া আরও অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহাদেবপুর থানার এসআই শামিনুল ইসলাম জানান, মামলার অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার কারা সম্ভব হয়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, স্কুল ড্রেস পরে না আসার কারণে গত ৬ এপ্রিল দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল ছাত্রীদের ও শরীরচর্চার শিক্ষক বদিউল আলম ছাত্রদের মৃদু অনুশাসন করেন। তবে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র কের ‘হিজাব না পরায় শিক্ষার্থীদের মারা হয়’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন জানান, ঘটনাটি তদন্তে কমিটির প্রধান মহাদেবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মালেকসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গত সোমবার রাতে চার পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে হিজাব পরার জন্যে নয়; শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস না পরায় পেটানোর সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য গুজব ছড়িয়ে শিক্ষক আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষজনকে উসকে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ আরও জানান, জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক