মনের আবার যত্ন- এ কেমন কথা? হ্যাঁ, শরীরকে ভালো রাখতে যেমন যত্ন প্রয়োজন, তেমনি মনকে ভালো রাখতেও চাই নিয়মিত যত্ন। মনকে অবহেলা করে কখনো পরিপূর্ণভাবে ভালো থাকা সম্ভব নয়। তাই নিন মনের যত্ন।

যত্ন নেবার জন্য খুব কম সময় কিন্তু সচেতনতা প্রয়োজন। শরীর এবং নিজের মনকে ভালো রাখতে হলে কিছুটা যত্ন দরকার, মনকে ভালো রাখতে, চাই নিয়মিত যত্নের অনুভূতি। নিজের প্রতি ব্যক্তি যত্নশীল হওয়ার অর্থ, যত্নের সাথে উঁকি দেওয়া- শারীরিক, আধ্যাত্মিক, আর মানসিক চাহিদার ব্যাপারে। কোন অজুহাত ছাড়ায় ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ নেওয়া। মনকে ভালো রাখতে হলে প্রিয় কাজগুলো করতে হবে আর শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

তাই আসুন কতকগুল টিপস জেনে নেই ‘নিজের মন আর শরীরের’ যত্ন কিভাবে নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে হাফিংটন পোস্ট ও উইকিহাউ জানান,

‘মনের যত্নের প্রতি প্রত্যেকের সময় রাখা উচিত, সারাদিনে অল্প হলেও সময় দিন।’ অজস্র কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আমরা নিজেদের ব্যাপারে অসচেতন হয়ে পড়ি। শত ব্যাস্ততার মাঝেও নিজেকে, নিজের অনুভূতিকে সতেজ রাখবে তেমন কয়েকটি টিপস।

দুশ্চিন্তার জন্য সময় রাখুন

প্রথমেই এমন একটি কথা পড়ে আশ্চর্য হচ্ছেন? আরে ভাই, দুশ্চিন্তা হবে এটাই তো স্বাভাবিক! তাই এর জন্যও সময় রাখা চাই। দুশ্চিন্তাকে সময় না দিলে এটি আপনাকে দিনভর গ্রাস করতে থাকবে। তাই সময় দিন। তবে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি নয়। এরপর থামুন। এবার চিন্তা করুন কীভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসবেন। ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবুন।

রাতের আকাশে বসুন
মনের সতেজতার নানান গল্প আছে, আছে ত তাই না। নিজেকে মধ্যরাতের তারার ঝাঁকে খুঁজুন, বসে পড়ুন রাতের নীলিমায়, আগে হয়ত কখনও দেখা হয়নি নিজের উজ্জল নক্ষত্রের প্রতিবিম্ব রূপকে। মনের ঘরে আসুক প্রশান্তি ঝড়।

প্রকৃতিকে স্পর্শ করুন অনুভবে
অনুভূতি গাছের পাতার ডগায় বসে থাকা বিন্দু কণা জল। প্রতিটি স্পর্শ যেন হয় অনুভবের গল্প। নিজের ঘরের টপে বেড়ে ওঠা গাছটিকে পানি দেবার সময় আলত করে স্পর্শ করুন। নিজের প্রিয় বিষয়গুলোকে ধরার সময় খেয়াল করুন। যত্ন নিন নিজের অনুভূতির।

মডেলঃ মাহবুবা রাখী

ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কিছুটা সময় দূরে থাকুন
নিজের যত্ন নেবার সময় কখনো কখনো নিজেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস(মোবাইল, ইন্টারনেট, এবং টেলিভিশন) থেকে দূরে রাখুন। ভাবুন নিজেকে নিয়ে।

লিখুন নিজের সাফল্য
খাতা-কলম নিয়ে বসুন। আপনমনে কিছু ইতিবাচক দিক লিখুন। সাফল্য পেতে চাইলে আপনাকে আরো কী কী করতে হবে তারও একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন। দেখবেন ভালো লাগবে। প্রতিদিন ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে কি কিছুক্ষণ ভাবি? নিজের আনমনা অনুভূতিগুলোও লিখে রাখতে পারেন ডায়রির পাতায়।

ছুটি দিন চিন্তাকে
যে চিন্তারা আমাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ভাবতে বাধ্য করে, যন্ত্রণার সঙ্গী করে সেটি নিয়ে চিন্তা কিছুক্ষণ ছেড়ে দেই। যেতে দিন সময়। এটা হতে পারে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বা অথবা দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে। ভাল রাখতে নিজেকে প্রথমে ভাল রাখার অনুভূতিকে হাতে রাখা।

মডেলঃ মাহবুবা রাখী ও প্রমূখ

চিন্তা বাড়াতে সাহায্য করুন। ভাবুন কোন খোলা প্রান্তে বসে। নয়ত নদীর পাশে নিজেকে কতক্ষণ ছেড়ে দিন।
হাটুন আপন মনে। কিংবা আড্ডা দিন বন্ধুদের সাথে আর মন খুলে হাসুন।

ধ্যান

মনের যত্নে ধ্যান বা মেডিটেশন করার বিষয়টি হাজার বছর ধরে চলে আসছে। এটি মনকে ভালো রাখা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমায়। ইতিবাচক চিন্তা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান করুন।

পছন্দের কাজ করুন

বেড়াতে যাওয়া, গান শোনা, গান গাওয়া, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, রান্না করা, লং ড্রাইভে যাওয়া, সিনেমা দেখা সহ প্রিয় কাজগুলো করুন। এগুলো মনের খোরাক জোগাতে কাজ করবে। মনকে ভালো রাখবে।

মডেল- মাহবুবা রাখী

যেতে দিন বা ছেড়ে দিন

যেটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটি নিয়ে চিন্তা করবেন না। যেতে দিন। এটা হতে পারে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বা আপনার দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে। যদিও এই ‘যেতে দেওয়া বা ছেড়ে দেওয়া’ বিষয়টি কঠিন। তবে নিয়মিত এর চর্চা করলে দেখবেন আপনিও পারছেন। আপনারও হালকা লাগছে। মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী হোন। ক্ষমা করুন।

ব্যায়াম করুন

মন ভালো রাখতে ব্যায়াম করতে পারেন, করতে পারেন কিছু যোগব্যায়ামও। গবেষণায় বলা হয়, নিয়মিত হাঁটা মানসিক চাপকে কমাতে সাহায্য করে। এতে মন ভালো থাকে।

ইতিবাচক চিন্তা করুন

আমাদের চিন্তার অধিকাংশটাই জুড়ে থাকে নেতিবাচক চিন্তা আর দুশ্চিন্তা। তাই ভালো ভাবনাগুলোকে আমরা কাজে লাগাতে পারি না। ভালো ভাবনাকে কাজে লাগান। ইতিবাচক চিন্তা করুন। ইতিবাচক চিন্তা মানে নিজেকে সাহায্য করা। নিজেকে নিজে সাহায্য করলে দেখবেন প্রকৃতিরও সাহায্য পাচ্ছেন।

‘আমি পারব’

নিজেকে বলুন আমি পারব, ভালো হবে, হচ্ছে।

স্বপ্ন দেখুন

মানুষ বাঁচে আশা বা স্বপ্নের মধ্য দিয়ে। নিজেকে ভালোবাসুন। ভালোবাসুন অন্যকেও।

আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত মনের যত্ন নিয়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনেউপভোগ করা। মন খারাপ থাকলে কিন্তু শরীরও খারাপ হয়। মনকে বুড়ো হতে দিবেন না, শরীরের বয়স বাড়ে মনের কিন্তু না। 

তথ্যসূত্রঃ অপরাজিতা/এনটিভি